ঘন ঘন লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। ভরা মৌসুমেও পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

সোমবার সকালে সৈকতের জিরো পয়েন্টে হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক দেখা গেলেও লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান ও গঙ্গামতিসহ অধিকাংশ পর্যটন স্পট প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত দুই সপ্তাহে পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

হোটেল-মোটেল মালিক, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যটক কমে যাওয়ায় তাদের আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে। মৌসুমের এই সময়টিতে সাধারণত ব্যবসা জমে উঠলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

অন্যদিকে, যারা কুয়াকাটায় অবস্থান করছেন, তারাও পড়েছেন নানা ভোগান্তিতে। তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক হোটেল জেনারেটর চালাতে পারছে না, ফলে সেবার মানও কমে গেছে।

বাগেরহাট থেকে আসা পর্যটক নুরুল কবির জানান, পরিবার নিয়ে ভ্রমণে এসে তেল সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একাধিক পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। এখন ফেরার সময়ও তেল না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন।

টাঙ্গাইল থেকে আসা সুশিল ও সীমা দম্পতি বলেন, বাস ভাড়া বেশি দিয়েও স্বস্তি পাননি। কুয়াকাটায় এসে তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের অভিজ্ঞতা খারাপ হয়েছে। তেলের অভাবে হোটেলে জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও তারা জানান।

হোটেল ফ্রেন্ডস পার্কের ম্যানেজার পারভেজ হোসেন বলেন, দিনে-রাতে কয়েকবার লোডশেডিং হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পর্যটকদের অসন্তোষ বাড়ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।