এক বছর আগে রক্তাক্ত এক হামলার পর ভেঙে পড়েছিল জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন খাত। সেই আঘাত এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তবুও ধীরে ধীরে ফিরছেন পর্যটকরা। আতঙ্ক পেছনে ফেলে জীবিকা টিকিয়ে রাখতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছেন স্থানীয় মানুষ।
ধীরে ফিরছে পর্যটন, রয়ে গেছে শঙ্কা
কাশ্মীরে পর্যটক গাইড নাজাকাত আলীর ফোন এখন প্রায় প্রতিদিনই বেজে ওঠে। সম্ভাব্য ভ্রমণকারীরা নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চান। তিনি আশ্বস্ত করেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তবুও মানুষের মনে ভয় এখনো কাটেনি।
২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর বড় ধাক্কা খায় এই অঞ্চলের পর্যটন। কয়েক দশকের মধ্যে পর্যটকদের ওপর এটি অন্যতম ভয়াবহ হামলা। এর পরপরই ৮৭টি পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে প্রায় ৩০ লাখ পর্যটক এলেও ২০২৫ সালে তা কমে ১২ লাখের নিচে নেমে আসে। কিছু কেন্দ্র খুলে দেওয়া হলেও হামলার স্থান বাইসারান তৃণভূমি এখনো বন্ধ।
অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
পর্যটক কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে। তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আবু বকর হামলার কয়েক মাস আগে হোটেল খুলেছিলেন। বিনিয়োগের টাকা ফেরত তো দূরের কথা, ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়েছে তাকে।
হোটেল মালিকদের মতে, এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি থাকে। পেহেলগাম হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় নেমে এসেছে অনেক নিচে।
নিরাপত্তা, রাজনীতি ও প্রভাব
হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং স্বল্প সময়ের সামরিক সংঘাতও হয়। দিল্লি পাকিস্তানভিত্তিক একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে।
পরে নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করা হয়। প্রায় ৩ হাজার তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মানসিক আঘাত ও পরিবর্তিত বাস্তবতা
এই হামলার প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে নয়, মানুষের মনেও গভীর দাগ ফেলেছে। অনেকে এখনো আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ হারিয়েছেন স্বজন।
পেহেলগামের চেনা দৃশ্যও বদলে গেছে। সকালে প্রকৃতি আগের মতোই সুন্দর থাকলেও দিনের ব্যস্ততা কমে গেছে। পর্যটকরা দ্রুত ঘুরে ফিরে যান, রাতে থাকার প্রবণতা কম।
আশার আলো কতটা
কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে এবং পর্যটক ফিরতে শুরু করেছেন। কিছু পর্যটকও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
গাইড নাজাকাত আলী এখনো প্রতিদিন পর্যটকদের ফোনে আশ্বাস দেন। তাঁর কথায়, প্রকৃতি বদলায়নি, কিন্তু জায়গাটার অনুভূতি আগের মতো নেই।