দেশের ভেতরে দ্রুত, নিরাপদ ও ব্যক্তিগত ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া। জরুরি চিকিৎসা, সময় সাশ্রয় কিংবা ভিড় এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য এই সেবা এখন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে কীভাবে এই সেবা নেওয়া যায়, খরচ কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়।
দেশে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে হলে সাধারণত চার্টার এভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে হেলিকপ্টার, ছোট বিমান কিংবা প্রাইভেট জেট সরবরাহ করে থাকে।
সেবাটি নিতে প্রথমে যাত্রাপথ, যাত্রীর সংখ্যা, ভ্রমণের নির্দিষ্ট সময় এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত উড়োজাহাজের ধরন নির্বাচন করে এবং মোট খরচের একটি কোটেশন দেয়।
ভাড়া নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্রমণের দূরত্ব, উড়োজাহাজের ধরন, অপেক্ষার সময়, জ্বালানি ব্যয় এবং বিমানবন্দর ব্যবহারের চার্জ। বিশেষ করে ঢাকাসহ বড় বিমানবন্দরগুলোতে অবতরণ ও পার্কিং খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
নিরাপত্তা ও আইনগত দিক এই সেবার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত অপারেটরের মাধ্যমেই চার্টার সেবা নেওয়া উচিত। এতে যাত্রা নিরাপদ থাকে এবং আইনি জটিলতার ঝুঁকি কমে।
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে বুকিং সুবিধা চালু করেছে। তাদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই সময়, রুট এবং বাজেট অনুযায়ী ফ্লাইট নির্বাচন করা যায়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে।
সাধারণত ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ৪ থেকে ৮ জন যাত্রী বহনের ব্যবস্থা থাকে। তবে উড়োজাহাজের ধরন ও আকার অনুযায়ী আসনসংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
এই সেবা নেওয়ার আগে খরচ, নিরাপত্তা মান এবং অপারেটরের বৈধতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং ভুল সিদ্ধান্তে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
দেশে ইম্প্রেস অ্যাভিয়েশন, আর অ্যান্ড আর অ্যাভিয়েশন এবং স্কাই এয়ারসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান প্রাইভেট জেট, হেলিকপ্টার ও ছোট বিমান ভাড়া দিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের অফিস, ওয়েবসাইট বা ফোনের মাধ্যমে সহজেই যোগাযোগ করা যায়।