প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। শুক্রবার ও শনিবার জুড়ে সৈকতের প্রধান পয়েন্টগুলোতে ভিড় করেছে হাজারো ভ্রমণপ্রেমী। তীব্র তাপদাহ সত্ত্বেও সাগরের টানে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল পুরো এলাকা।
কক্সবাজারের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পর্যটকেরা দল বেঁধে সৈকতে ঘুরে বেড়ান। কেউ নামছেন সাগরের পানিতে, কেউবা ছাতা টাঙানো চেয়ার ভাড়া নিয়ে ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। একই সঙ্গে জেট স্কি ও বিচ বাইকিংয়েও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, গরমটা অনেক বেশি হলেও সাগরে নামলে তা আর তেমন অনুভূত হয় না। ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশ উপভোগ করছি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা নুসরাত জাহান জানান, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন তারা। গরম থাকলেও পরিবেশ বেশ প্রাণবন্ত। বিশেষ করে জেট স্কি রাইডটি সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
সৈকতে দায়িত্বে থাকা সি সেফ লাইফগার্ড দলের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন আগে পর্যটক সংখ্যা কিছুটা কমে গেলেও সাপ্তাহিক ছুটিতে আবার বেড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাইফগার্ডরা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, এপ্রিল মাস স্বাভাবিকভাবেই গরমের সময়। গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় সাগর উপকূলে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ‘ফিলস লাইক’ তাপমাত্রা বাস্তবের চেয়ে বেশি মনে হয়। ফলে পর্যটকদের অস্বস্তি বাড়লেও সাগরের ঠান্ডা পানিই তাদের প্রধান স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠছে।