ভ্রমণের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে। আইকনিক স্থাপনার ভিড় থেকে সরে এসে এখন অনেকেই খুঁজছেন কম পরিচিত, অথচ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ গন্তব্য। এই প্রবণতাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ম্যাগাজিন ট্রাভেল+লেজার প্রকাশ করেছে বিশ্বের সেরা ‘হিডেন জেম’ শহরের তালিকা। যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামই দেখিয়েছে চমক।

তালিকার শীর্ষে ভিয়েতনামের আধিপত্য

মোট ২৩টি শহর বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় মূল্যায়নের প্রধান সূচক ছিল সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যয়, শহরের আয়তনের তুলনায় দর্শনীয় স্থান ও রেস্তোরাঁর ঘনত্ব এবং আবহাওয়া।

১০০-এর মধ্যে ৯২ দশমিক ৯৬ স্কোর পেয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনামের প্রাচীন শহর হোই আন। দ্বিতীয় স্থানেও আছে একই দেশের উপকূলীয় শহর দা নাং।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেলজিয়ামের ব্রুগ, যা তার খালঘেরা মধ্যযুগীয় সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এরপর তালিকায় স্থান পেয়েছে মরক্কোর এসসাউইরা ও শেফশাউয়েন।

এ ছাড়া ইতালির কালাব্রিয়া, গ্রিসের পারোস, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ, সার্বিয়ার বেলগ্রেড এবং পর্তুগালের ক্যাসকাইসও জায়গা করে নিয়েছে এই তালিকায়।

হোই আন কেন সেরা

ইউনেসকো স্বীকৃত হোই আনকে বলা হয় জীবন্ত ঐতিহ্যের শহর। থু বোন নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জনপদে ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন চোখে পড়ে।

সন্ধ্যা নামলে শহরজুড়ে জ্বলে ওঠে রঙিন লণ্ঠনের আলো। জাপানিজ কাভার্ড ব্রিজ, প্রাচীন মন্দির এবং পুরোনো স্থাপত্য ভ্রমণকারীদের নিয়ে যায় কয়েক শতাব্দী পেছনে।

খাবারের দিক থেকেও হোই আন সমান আকর্ষণীয়। বান মি, কাও লাউ ও হোয়াইট রোজ ডাম্পলিংয়ের মতো স্থানীয় খাবার ভোজনরসিকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।

পাশাপাশি নারকেলগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি গোলাকার নৌকায় নদীপথ ভ্রমণ এখানকার অন্যতম অনন্য অভিজ্ঞতা।

একই সফরে হোই আন ও দা নাং

ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় হোই আন ও দা নাং একই সফরে ঘোরা সহজ। দা নাংয়ের সমুদ্রসৈকত, আধুনিক শহরজীবন এবং হোই আন-এর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ মিলিয়ে ভ্রমণকারীরা পান বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘হিডেন জেম’ শহর

ট্রাভেল+লেজার ম্যাগাজিনের সম্পাদক টেলর ম্যাকইনটায়ার বলেন, এসব শহর অতীতের জানালার মতো। ছোট আকারের হওয়ায় এগুলো সহজে হেঁটে ঘোরা যায় এবং স্বল্প সময়ে অনেক কিছু দেখা সম্ভব।

কম ভিড়, কম খরচ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগই এই শহরগুলোর মূল আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

ভ্রমণ প্রবণতার পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘ওভারট্যুরিজম’ বা অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোকে কিছুটা ক্লান্ত করে তুলেছে। ফলে ভ্রমণকারীরা এখন বিকল্প গন্তব্য খুঁজছেন, যেখানে পাওয়া যাবে স্বস্তি, স্বকীয়তা এবং প্রকৃত অভিজ্ঞতা।