টানা লোডশেডিং আর তেল সংকটের দ্বিমুখী চাপে পর্যটননির্ভর শ্রীমঙ্গলে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। দিনে ও গভীর রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে পর্যটন খাতে, যেখানে সেবা ব্যাহত হওয়ায় কমছে পর্যটকের আগমন, বাতিল হচ্ছে আগাম বুকিং।
প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রীমঙ্গলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় এ সময়সীমা আরও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও গেস্ট হাউসগুলো পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে পারছে না।
তেলের সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জেনারেটর চালাতে না পারায় রাতের গরমে পর্যটকদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে করে পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ছে এবং অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই শ্রীমঙ্গল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
শহরের যানজট ও দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এদিকে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পড়েছে নতুন সংকটে। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, যা তাদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী আইপিএস ও ব্যাটারির দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার শতাধিক হোটেল ও রিসোর্টে আগাম বুকিং বাতিল করেছেন অনেক পর্যটক। আবার যারা এসেছেন, তারাও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়েও প্রভাব পড়ছে।
শ্রীমঙ্গল রাধানগর ট্যুরিজম এন্ট্রাপ্রেনারের সাধারণ সম্পাদক তারেকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থাও পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছে। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কটেজ ও গেস্ট হাউসগুলো অতিথি নিতে পারছে না।
চামুং রেস্টুরেন্টের পরিচালক পংকজ ভট্টাচার্য জানান, আগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ পর্যটককে সেবা দেওয়া হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এতে প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও তেল সংকট একসঙ্গে পর্যটন খাতকে চাপে ফেলেছে। সেবা দিতে না পারায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, আর এই খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবিকা হুমকিতে পড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল পল্লীবিদ্যুতের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, বিদ্যুতের চাহিদা ওঠানামার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলায় প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক রয়েছে, যার মধ্যে শ্রীমঙ্গলে ৮৩ হাজার। বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৭৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত। ফলে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গরম বাড়লে চাহিদা ১২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত যেতে পারে। তবে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।