আকাশচুম্বী ভবন আর মোটরযানের ভিড় বাড়ার আগেই শহরের চাপ কমাতে মানুষ তাকিয়েছিল মাটির নিচে। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বিশ শতকের শুরুর দিকে দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও যানজটের সমাধান হিসেবে গড়ে ওঠে মেট্রোরেল। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলালেও বিশ্বের কিছু প্রাচীন মেট্রো ব্যবস্থা আজও সচল, ইতিহাস আর আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে।
মেট্রো শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, শহরের বিস্তার, অর্থনীতি এবং আধুনিক নগরজীবনের প্রতীক হিসেবেও বড় ভূমিকা রেখেছে। পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেই অনেক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ট্রেন ও অবকাঠামো। এমনই বিশ্বের প্রাচীনতম কিছু মেট্রো ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো।
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো মেট্রো হিসেবে পরিচিত। ১৮৬৩ সালে বাষ্পচালিত ট্রেনে যাত্রা শুরু হলেও ১৮৯০ সালে বিদ্যুচ্চালিত গভীর সুড়ঙ্গ রেল চালুর মাধ্যমে আধুনিক মেট্রোর যুগ শুরু হয়। ‘দ্য টিউব’ নামে পরিচিত এই নেটওয়ার্কের মানচিত্র ও ‘মাইন্ড দ্য গ্যাপ’ সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
বুদাপেস্ট মেট্রো
১৮৯৬ সালে চালু হওয়া এই মেট্রো ইউরোপের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল। হাঙ্গেরির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে এটি নির্মিত হয়। আজও এর প্রথম লাইনটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে চালু রয়েছে।
গ্লাসগো সাবওয়ে
একই বছরে চালু হওয়া গ্লাসগোর মেট্রো বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী। এখানে একাধিক লাইন নয়, বরং ঘড়ির কাঁটার দিকে ও বিপরীত দিকে চলা দুটি বৃত্তাকার রুট রয়েছে। ‘ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ’ নামে পরিচিত এই নেটওয়ার্ক এখনো শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিকাগো এল
১৮৯৭ সালে চালু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই মেট্রোর বিশেষত্ব এর উঁচু লাইনে চলাচল। ‘এল’ শব্দটি এসেছে ‘এলিভেটেড’ থেকে। শহরের ব্যবসায়িক কেন্দ্র ঘিরে থাকা ‘লুপ’ অংশটি সবচেয়ে পরিচিত।
প্যারিস মেট্রো
১৯০০ সালের বিশ্বমেলার সময় চালু হওয়া এই মেট্রো শুধু পরিবহন নয়, নান্দনিকতার জন্যও বিখ্যাত। আর্ট নুভো ধাঁচের প্রবেশপথগুলো এখনো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
বোস্টন সাবওয়ে
১৯০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রো হিসেবে যাত্রা শুরু। ঘোড়া টানা গাড়ি ও ট্রামজনিত যানজট কমাতেই এটি নির্মিত হয়। বর্তমানে এমবিটিএ ব্যবস্থার অধীনে এর কিছু অংশ চালু রয়েছে।
বার্লিন ইউ-বার্ন
১৯০২ সালে চালু হওয়া এই মেট্রো দুটি বিশ্বযুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধের বিভক্ত সময় পার করেছে। একসময় ‘ঘোস্ট স্টেশন’ ছিল, যেখানে ট্রেন থামত না। জার্মান পুনঃএকত্রীকরণের পর এটি আবার সম্প্রসারিত হয়।
এথেন্স মেট্রো
১৯০৪ সালে পুরোনো রেললাইন আধুনিকায়নের মাধ্যমে যাত্রা শুরু। ২০০৪ অলিম্পিকের আগে বড় উন্নয়ন ঘটে। নির্মাণকাজে পাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অনেক স্টেশনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে
১৯০৪ সালে চালু হয়ে দ্রুত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেট্রোতে পরিণত হয়। ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন বরোকে যুক্ত করে শহরের দ্রুত বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক লাইনে ২৪ ঘণ্টা চলাচল এই নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য।
ফিলাডেলফিয়া সেপটা
১৯০৭ সালে চালু হওয়া মার্কেট স্ট্রিট সাবওয়ে-এলিভেটেড দিয়ে শুরু। পরে এটি সেপটা নেটওয়ার্কের অংশ হয়। ঐতিহাসিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।