এক সময় মানুষের কথা এক শহর থেকে অন্য শহরে পৌঁছানো ছিল অলৌকিক স্বপ্নের মতো। কিন্তু ১৮৭৬ সালের এক বিকেলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। আজ আমরা কথা বলব সেই পাঁচটি টেলিফোন সেট নিয়ে, যা আমাদের যোগাযোগের জগতকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।
১৮৭৬ সাল। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল তৈরি করলেন ইতিহাসের প্রথম টেলিফোন— ‘লিকুইড ট্রান্সমিটার’। এটি দেখতে এখনকার ফোনের মতো একদমই ছিল না। এটি ছিল একটি ফানেলের মতো যন্ত্র যার নিচে ছিল অ্যাসিড মেশানো পানি। এই যন্ত্র দিয়েই বেল তাঁর সহকারী ওয়াটসনকে ডাক দিয়েছিলেন। এটিই ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম টেলিফোন কল।
১৮৭৭ সালে বেল তাঁর আবিষ্কারকে আরও উন্নত করেন। এই মডেলটির নাম দেওয়া হয় ‘বাটারস্ট্যাম্প ফোন’। কারণ এটি দেখতে সে সময়ের মাখন কাটার যন্ত্রের (Butter stamp) মতো ছিল। এতে একটি মাত্র ছিদ্র ছিল যা দিয়ে কথা শুনতে হতো আবার সেখানেই মুখ দিয়ে কথা বলতে হতো। অর্থাৎ, কথা বলা শেষ করে কানে ধরতে হতো শোনার জন্য!
১৮৮০-এর দশকে টেলিফোন প্রযুক্তিতে বিপ্লব আনেন ফ্রেডরিক গাওয়ার। তাঁর আবিষ্কৃত ‘গাওয়ার-বেল’ টেলিফোনটি ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এটি দেখতে বেশ বড় কাঠের বাক্সের মতো ছিল এবং দেয়ালে টাঙিয়ে ব্যবহার করতে হতো। এই ফোনের মাধ্যমে প্রথম বড় পরিসরে বাণিজ্যিক টেলিফোন নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।

আগে ফোন করতে হলে প্রথমে একজন ‘অপারেটর’কে বলতে হতো আপনি কাকে ফোন করতে চান। কিন্তু ১৯০৫ সালে এলো ‘স্ট্রজার পোটবেলি ডায়াল ফোন’। এটিই প্রথম ফোন যাতে ডায়াল করার চাকা বা ‘রোটারি ডায়াল’ ছিল। মানুষ প্রথমবারের মতো সরাসরি অন্যকে ফোন করার স্বাধীনতা পেল। এর অদ্ভুত আকৃতির কারণে একে ‘পোটবেলি’ বা ভুঁড়িওয়ালা ফোন বলা হতো।
১৯২৭ সালে ওয়েস্টার্ন ইলেকট্রিক নিয়ে এলো ‘মডেল ১০২’। এর আগে টেলিফোনের স্পিকার থাকতো এক জায়গায় আর শোনার অংশ থাকতো অন্য হাতে। কিন্তু এই প্রথম ফোন সেট তৈরি হলো যেখানে একটি হ্যান্ডসেটেই কথা বলা এবং শোনার ব্যবস্থা ছিল। আজকের আধুনিক ফোনের যে ডিজাইন আমরা দেখি, তার ভিত্তিপ্রস্তর ছিল এই মডেল ১০২।
আজ আমাদের হাতে হাতে যে স্মার্টফোন, তার পূর্বপুরুষ ছিল এই কাঠের বাক্স আর অ্যাসিডের ফানেল। প্রযুক্তির এই বিশাল লাফ আমাদের একে অপরের কাছে এনে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই পুরনো টেলিফোনের ক্রিং-ক্রিং শব্দ আজও আমাদের এক নস্টালজিক অতীতে নিয়ে যায়।