রাজকীয় ক্ষমতা আর ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবে নির্মিত প্রাসাদগুলো আজ ইতিহাসের সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত জাদুঘর। এক সময় যেখানে প্রবেশাধিকার ছিল কেবল রাজা-সম্রাট ও অভিজাতদের, সেই দরজাই এখন খুলে গেছে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের জন্য। পুরনো সিংহাসন কক্ষ, রাজকীয় কক্ষ, ধনভাণ্ডার আর শিল্পগ্যালারি এখন ইতিহাস ও সংস্কৃতির জীবন্ত সাক্ষী।
ল্যুভর প্রাসাদ, প্যারিস
১২শ শতকের শেষদিকে দুর্গ হিসেবে নির্মিত এই প্রাসাদ পরবর্তীতে ফরাসি রাজাদের আবাসস্থল হয়ে ওঠে। ১৬৮২ সালে রাজা লুই চতুর্দশ ভার্সাইয়ে চলে গেলে এর গুরুত্ব কমতে থাকে। ফরাসি বিপ্লবের সময় ১৭৯৩ সালে এটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দর্শনার্থীপূর্ণ জাদুঘর হিসেবে পরিচিত ল্যুভরে ‘মোনালিসা’সহ অসংখ্য বিখ্যাত শিল্পকর্ম সংরক্ষিত আছে।
ফরবিডেন সিটি, বেইজিং
১৪০৬ থেকে ১৪২০ সালের মধ্যে নির্মিত এই বিশাল প্রাসাদ প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে মিং ও চিং রাজবংশের সম্রাটদের আবাসস্থল ছিল। এটি ছিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। ১৯১২ সালে সাম্রাজ্যের পতনের পর ১৯২৫ সালে এখানে ‘প্যালেস মিউজিয়াম’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এক হাজারেরও বেশি স্থাপনা নিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাসাদ কমপ্লেক্স।
তপকাপি প্রাসাদ, ইস্তাম্বুল
ওসমানীয় সুলতানদের প্রধান আবাসস্থল ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রাসাদ উনিশ শতকের শুরু পর্যন্ত সাম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল। তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৪ সালে এটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়। এখানে দর্শনার্থীরা প্রাসাদের অঙ্গন, রাজকীয় কক্ষ, ধনভাণ্ডার ও ধর্মীয় নিদর্শন ঘুরে দেখতে পারেন।
ভার্সাই প্রাসাদ, ফ্রান্স
প্রথমে এটি ছিল একটি শিকার লজ। পরে লুই চতুর্দশের আমলে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদে পরিণত হয়। ১৬৮২ থেকে ফরাসি বিপ্লব পর্যন্ত এটি রাজাদের প্রধান আবাস ছিল। ১৮৩৭ সালে এটি ফ্রান্সের ইতিহাস জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়। আয়নার হল, রাজকীয় কক্ষ ও সুবিশাল বাগানের জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত।
উইন্টার প্যালেস, সেন্ট পিটার্সবার্গ
১৭৩২ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এটি ছিল রুশ শাসকদের সরকারি আবাসস্থল। রুশ বিপ্লবের পর এটি স্টেট হার্মিটেজ জাদুঘরের অংশ হয়ে যায়। বর্তমানে এখানে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, রেমব্রান্টসহ বিশ্বের খ্যাতিমান শিল্পীদের কাজ সংরক্ষিত রয়েছে।