দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রতীরবর্তী সড়ক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের প্রশস্তকরণ কাজ শেষের পথে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু হয়ে হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, ইনানী হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। এক পাশে সবুজ পাহাড়, অন্য পাশে নীল সমুদ্রের অপরূপ দৃশ্য এই পথকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন রুটে পরিণত করেছে। সড়ক প্রশস্ত হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতিতে ইতোমধ্যে এর সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে উখিয়ার পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় ৪০০ কোটি এবং সেতু নির্মাণ ও উপকূল সুরক্ষা জোরদারে ব্যয় হচ্ছে বাকি অর্থ। রেজুখাল সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগে ১৮ ফুট প্রশস্ত এই সড়ক এখন বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করা হচ্ছে। প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট, পেভমেন্ট উন্নয়ন, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, জিওটেক্সটাইল ব্লক ও টেট্রাপড স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। রেজুখালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের একটি সেতুও নির্মাণাধীন।

সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং প্রথম ধাপ প্রায় শেষের দিকে। যেসব অংশে প্রশস্তকরণ শেষ হয়েছে, সেখানে যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক ও সহজ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উন্নয়ন পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করবে এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পর্যটকবাহী জিপচালক মো. আবদুল্লাহ বলেন, আগে সরু সড়কের কারণে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন অনেক স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে, ফলে পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম জানান, উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পর্যটক সুমা আলম বলেন, মেরিন ড্রাইভের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই ছিল, তবে এখন যাত্রা অনেক বেশি আরামদায়ক হওয়ায় ভ্রমণের আনন্দ বেড়েছে।

২০২২ সালের ২৮ জুন একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, উন্নত এই সড়ক নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।