ফেনী শহরের পাশেই বিস্তৃত এক দিঘি ঘিরে আজও ঘুরে বেড়ায় রহস্য আর লোককথা। স্থানীয়দের বিশ্বাস, একসময় এই জলাশয় থেকে ভেসে উঠত সোনা-রুপার থালা। ইতিহাস আর জনশ্রুতির মিশেলে গড়ে ওঠা এই দিঘি এখন পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ফেনী জেলার পশ্চিম দিকে, শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে বিজয় সিংহ গ্রামে অবস্থিত বিজয় সিংহ দিঘি। ফেনী সার্কিট হাউজের সামনেই এর অবস্থান। প্রায় ৩৭.৫৭ একর আয়তনের এই দিঘি উঁচু পাড় ও সবুজ গাছপালায় ঘেরা, যা এলাকাটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।

দিঘিটির ইতিহাস নিয়ে মতভেদ রয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত, সেন বংশের রাজা বিজয় সেন এটি খনন করান। আবার কেউ কেউ বলেন, ত্রিপুরার এক রাজকন্যার অন্ধত্ব নিরাময়ের উদ্দেশ্যে এই দিঘি খনন করা হয়েছিল। এ কারণেই একে অনেকেই রাজাঝির দিঘি নামেও চেনেন। অন্য একটি মতে, স্থানীয় রাজা বিজয় সিংহ তার মায়ের ইচ্ছা পূরণে দিঘিটি খনন করান।

এই দিঘিকে ঘিরে সবচেয়ে প্রচলিত কাহিনি সোনা-রুপার থালা ভেসে ওঠার গল্প। জনশ্রুতি আছে, কেউ কোনো অনুষ্ঠানের জন্য দিঘির পাড়ে গিয়ে প্রার্থনা করলে প্রয়োজনীয় বাসনপত্র পাওয়া যেত। তবে এক ভিখারিনী একটি থালা চুরি করার পর থেকেই এই অলৌকিক ঘটনা বন্ধ হয়ে যায়। এসব কাহিনির কোনো প্রামাণিক ভিত্তি না থাকলেও স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে আজও।

স্থানীয়দের মতে, একসময় এই দিঘিতে ৮০ থেকে ১০০ কেজি ওজনের বড় মাছও পাওয়া যেত। বর্তমানে দিঘিটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর শান্ত পরিবেশের জন্য বেশি পরিচিত। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে বিকেলের সময় দিঘির চারপাশে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

যোগাযোগের দিক থেকেও জায়গাটি সহজলভ্য। ফেনী শহরের ট্রাঙ্ক রোড জিরো পয়েন্ট বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি বা রিকশায় সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। মহিপাল পয়েন্ট হয়ে সার্কিট হাউজ রোড ধরে সরাসরি দিঘিতে যাওয়া সম্ভব।

থাকার জন্য ফেনী সার্কিট হাউজ ছাড়াও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজ রয়েছে। এছাড়া শহরের আবাসিক হোটেলগুলোও ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক।