ইউরোপে উড়োজাহাজ চলাচল বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা শুরু হতে পারে। এতে ইউরোপজুড়ে বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিরোল জানান, ইউরোপে এখন সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহের মতো জেট ফুয়েল মজুত আছে। এই সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট দ্রুত তীব্র হবে। তিনি বলেন, জ্বালানি ঘাটতির কারণে শিগগিরই এক শহর থেকে আরেক শহরের ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যাবে।

এই সংকটের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা। ইরানে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপের বিমান খাতে।

ফাতিহ বিরোলের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটগুলোর একটি, যা শুধু ইউরোপ নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে বিমান খাত দ্রুত সংকটে পড়ছে, কারণ জেট ফুয়েলের বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত।

গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে বৈঠকে বসে এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় সংকট কাটেনি। বরং আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রও প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা করলে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হয়।