দুর্গম পাহাড়ি পথে ভ্রমণের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা থেকে বান্দরবানে গিয়েছিলেন ৪৭ জন পর্যটক। কিন্তু সেই ভ্রমণই পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাভেল গ্রুপের দায়িত্বশীলরাই তাদের রেমাক্রি এলাকায় ফেলে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দীর্ঘ পথ হেঁটে নিরাপদে ফিরতে হয় ভুক্তভোগীদের।
শনিবার থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘ভ্রমণ প্রিয় পর্যটক’ এবং ‘ঘুরি বাংলাদেশ’ নামে দুটি ট্রাভেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় পর্যটকরা তিন্দু-রেমাক্রি অঞ্চলে ভ্রমণে যান। তবে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করে গ্রুপের হোস্টরা পর্যটকদের সেখানে রেখেই চলে যান।
ফলে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় পড়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন ৪৭ জন পর্যটক। খাবার, নিরাপত্তা এবং ফেরার কোনো সুস্পষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় গাইডদের সহযোগিতায় তারা দীর্ঘ পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে আলীকদমে আসতে সক্ষম হন।
ভুক্তভোগী মো. মাহামুদুল হাসান জানান, প্রতিটি পর্যটকের কাছ থেকে ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা করে নিয়ে তিন দিন চার রাতের প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বরং তাদের বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।
থানচির ট্যুর গাইড সেলিম বলেন, ওই দুই ট্রাভেল গ্রুপের চারজন হোস্ট তাকে গাইড হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু রেমাক্রি এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই তারা গাইডসহ পর্যটকদের রেখে চলে যান, যা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।
এদিকে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম জানান, খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য খাবার এবং ঢাকায় ফেরার পরিবহন ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।