বাংলার কলম্বাস ডেস্ক

‘বাভারিয়া ও বাডেন-ভুর্টেমবার্গে ক্রোয়াটরা: ফেরা নাকি থাকা?’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গেল কয়েক বছরে জার্মানি থেকে ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। 
এখন যত মানুষ প্রতিবছর ক্রোয়েশিয়া থেকে জার্মানিতে পাড়ি জমাচ্ছেন, জার্মানি থেকে ফিরে যাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি। 
গবেষণাটি বুধবার তুলে ধরেন ক্রোয়েশিয়ান স্টাডিজ বিভাগের ডেমোগ্রাফি ও ক্রোয়েশিয়ান ডায়াসপোরার দুই শিক্ষক মনিকা বালিজা ও তামারা বডর।
অধ্যাপক বালিজা জানান, ২০২৪ সালে জার্মানিতে বসবাসকারী ক্রোয়েশিয়ান নাগরিকের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২০ হাজার।
এতে কেবল এককভাবে ক্রোয়েশিয়ান নাগরিকত্ব থাকা লোকজনকে ধরা হয়েছে। ফলে জার্মানিতে বসবাসরত ক্রোয়েশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
তিনি বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জার্মানিতে ক্রোয়েশিয়ান নাগরিকের সংখ্যা ৮ হাজার কমেছে। এই কমে যাওয়াকে আবার স্বাভাবিক জনসংখ্যার পরিবর্তনের কারণ হিসেবে দেখানো যাবে না। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে ক্রোয়েশিয়ান নাগরিকদের মধ্যে জন্মহার মৃত্যুহারের চেয়ে বেশি।
সেই হিসাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে জার্মানিতে আগমনের চেয়ে ফিরে যাওয়ার সংখ্যা বেশি ছিল।
২০২৪ সালে ক্রোয়েশিয়া থেকে জার্মানিতে যাওয়ার সংখ্যা ২০১১ সালের পর সর্বনিম্নে নেমে আসে, যদিও তা এখনো জার্মানি থেকে ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে আসা মানুষের সংখ্যার চেয়ে সামান্য বেশি। 
২০২৪ সালে মোট ৭ হাজার ৫০০ জন জার্মানি থেকে ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন, যাদের ৮০ শতাংশই ক্রোয়েশিয়ার নাগরিক। একই সময়ে ৮ হাজারের কিছু বেশি মানুষ ক্রোয়েশিয়া থেকে জার্মানিতে গেছেন।
বালিজা বলেন, এটিকে গণহারে প্রত্যাবর্তন বলা সঠিক হবে না, তবে সাম্প্রতিক প্রবণতা ক্রোয়েশিয়ার জন্য কিছুটা অনুকূল হয়েছে। 
২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ ক্রোয়েশিয়া থেকে জার্মানিতে গেছেন, বিপরীতে ৪০ হাজার মানুষ জার্মানি থেকে ক্রোয়েশিয়ায় ফিরেছেন। বর্তমানে জার্মানিতে বসবাসরত ক্রোয়েশিয়ান নাগরিকদের অর্ধেকই গত এক দশকে সেখানে গেছেন।
অধ্যাপক বডর জানান, গবেষণায় দেখা গেছে নতুন প্রজন্মের ৩৫ শতাংশ ক্রোয়েশিয়ান অভিবাসী জার্মানিতে ক্রোয়েশিয়ান কমিউনিটির সাংস্কৃতিক বা সামাজিক কার্যক্রমে কখনোই অংশ নেন না। ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বছরে একবার অংশ নেন, আর ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ মাঝেমধ্যে অংশগ্রহণ করেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ আগামী এক থেকে দশ বছরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন। ১০ শতাংশ ইতোমধ্যে এক বছরের মধ্যে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০ শতাংশের দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই, আর এই গোষ্ঠীর মাত্র ৯ শতাংশ মাঝেমধ্যে ফেরার কথা ভাবেন।
ফেরার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে ২৬ শতাংশ পূর্ব ক্রোয়েশিয়ায় যেতে চান। এরপর দালমাতিয়া অঞ্চলে ২২ শতাংশ, মধ্য ক্রোয়েশিয়ায় ১৭ শতাংশ, জাগরেবে ১৪ শতাংশ এবং ইস্ত্রিয়া ও কভার্নার অঞ্চলে ১০ শতাংশ যেতে আগ্রহী।
ফেরার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—নিজ দেশে বসবাসের আকাঙ্ক্ষা, আরও শান্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন, পরিবার ও সামাজিক নেটওয়ার্কের কাছে থাকা, নস্টালজিয়া এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অনুভূতি। অনেক সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকারী জানিয়েছেন, দেশে তাদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অভিবাসীরা দেশে ফেরার সরকারি সুবিধা ও নীতিমালা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। ১০ শতাংশ এসব নীতিকে পুরোপুরি অপ্রতুল মনে করেন, ১৩ শতাংশ আংশিকভাবে অনুপযুক্ত এবং ১৩ দশমিক ২ শতাংশ মাঝারি মানের উপযোগী বলে মনে করেন। 
গবেষকরা বলেন, প্রত্যাবর্তন নীতিমালা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করা প্রয়োজন, কারণ অধিকাংশ অভিবাসী মনে করেন তারা এসব সুবিধা থেকে উপকৃত হতে পারবেন না।
জার্মানিতে বসবাসরত ক্রোয়েশিয়ান নাগরিকদের সবচেয়ে বড় অংশ যেহেতু বাভারিয়া ও বাডেন-ভুর্টেমবার্গে থাকেন, তাই ৬৩৪ জনের ওপর ভিত্তি করে ওই অঞ্চলেই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।