ঈদের দীর্ঘ ছুটি, স্বাধীনতা দিবসের অবকাশ আর বসন্তের শেষপ্রহরের আবহ মিলিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সুন্দরবন। প্রকৃতির টানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনে। বিশেষ করে মোংলা সংলগ্ন করমজল পর্যটন কেন্দ্রে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, ঈদ ও ২৬ মার্চের ছুটি মিলিয়ে টানা প্রায় ১০ দিনের অবকাশে সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পট এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। করমজলের পাশাপাশি হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী ও আন্ধারমানিক এলাকাতেও পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পর্যটকরা বিলাসবহুল লঞ্চ, জ্যালিবোট ও ট্রলারে চড়ে বনের ভেতরে প্রবেশ করছেন। সেখানে হরিণের বিচরণ, কুমিরের উপস্থিতি ও বানরের কোলাহল উপভোগ করছেন তারা। তবে অনেকেরই প্রত্যাশা থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পাওয়ার।
বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে আসা মো. আসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে এসে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ মিলেছে। পরিবেশের নীরবতা ও সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে। যশোরের বিলকিস বেগম জানান, সন্তানরা বন্যপ্রাণী দেখে আনন্দ পেলেও বাঘ না দেখতে পাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের সুন্দরবন জোনের মুখপাত্র ব্রজ কিশোর পাল বলেন, দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ডেনিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ খলিফা জানান, পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রায় তিন হাজার নৌযান নিয়োজিত রয়েছে। ভ্রমণ যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক আছেন।
করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, এবারের ঈদে পর্যটকের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। শুধু করমজলেই প্রায় ১১ হাজার দর্শনার্থী ভ্রমণ করেছেন।