নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশ ভ্রমণ অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। কিন্তু আনন্দঘন সেই ভ্রমণ মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে যদি হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা মূল্যবান জিনিসপত্র হারানোর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য কয়েকশ টাকার ভ্রমণ বীমাই এমন পরিস্থিতিতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
ভ্রমণ সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই ভ্রমণ বীমাকে কেবল ভিসা প্রক্রিয়ার একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখেন। তবে বাস্তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা ভ্রমণকালীন নানা ঝুঁকি মোকাবেলায় সহায়তা করে।
বিশেষ করে ‘মেডিকেল ইভাকুয়েশন’ সুবিধা ভ্রমণ বীমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। কোনো দুর্গম এলাকায় গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার শিকার হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে, যার খরচ কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সঠিক বীমা থাকলে এই ব্যয় বীমা কোম্পানি বহন করে থাকে।
এছাড়া, আকস্মিক কারণে ভ্রমণ বাতিল হলে বা ফ্লাইট মিস হলে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগও দেয় ভ্রমণ বীমা। ‘ক্যানসেল ফর এনি রিজন’ সুবিধা থাকলে যাত্রী তার খরচের বড় অংশ ফেরত পেতে পারেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
লাগেজ হারিয়ে যাওয়া বা চুরির ঘটনাও বিদেশ ভ্রমণে অস্বাভাবিক নয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিশেষ করে স্থানীয় থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র থাকলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এসব ক্ষেত্রে শর্তাবলি পূরণ করা জরুরি।
অন্যদিকে, অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ভ্রমণকারীদের জন্য রয়েছে আলাদা সতর্কতা। সাধারণ বীমা পলিসিতে হাইকিং, স্কুবা ডাইভিং বা প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকে না। এ জন্য আলাদা ‘অ্যাডভেঞ্চার রাইডার’ যোগ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ভ্রমণ বীমা গ্রহণের ক্ষেত্রে পলিসির শর্তাবলি বা ‘ফাইন প্রিন্ট’ ভালোভাবে পড়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পূর্ব-বিদ্যমান রোগের তথ্য গোপন করলে দাবি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট ও ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, “ভ্রমণ মানেই কিছুটা অনিশ্চয়তা। আর সেই অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় ভ্রমণ বীমা একটি কার্যকর নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে।”
তারা আরও বলেন, সামান্য খরচ বাঁচাতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়। সচেতনভাবে বীমা গ্রহণ করলে ভ্রমণ হতে পারে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ।