ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামলেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত জুড়ে স্বস্তির বদলে বাড়ছে অসন্তোষ। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল, অনিয়ন্ত্রিত ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং এলোমেলো কর্মকাণ্ডে পর্যটন পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন দর্শনার্থীরা।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের জিরো পয়েন্টে বসার বেঞ্চের সামনে সারি সারি ভাসমান দোকান। ফলে সমুদ্র দেখার বদলে চোখে পড়ে দোকানের ঝুপড়ি। অনেকেই বলছেন, কাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ হারাচ্ছেন তারা।
এছাড়া বালুচরে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও অটোভ্যান। দ্রুতগতির এসব যানবাহন শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতে হাঁটার সময় হঠাৎ পেছন থেকে মোটরসাইকেল চলে যাওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
একই সঙ্গে সৈকতের বড় অংশজুড়ে দলবদ্ধ ফুটবল খেলার কারণে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলছেন, যে পরিবেশে স্বস্তিতে সময় কাটানোর কথা, সেখানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার অভাব প্রকট।
ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক সুজায়া বলেন, বেঞ্চে বসে সমুদ্র দেখার জন্যই এসেছিলাম। কিন্তু সামনে দোকান আর ভিড়ে সমুদ্রই দেখা যায় না। তার ওপর মোটরসাইকেলের ঝুঁকি আছে।
রাজন নামে আরেক পর্যটক বলেন, নিরিবিলি সময় কাটাতে এসে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাচ্চাকে একা ছেড়ে দেওয়ার সাহস পাচ্ছি না।
তবে অনেক মোটরসাইকেল চালক দাবি করছেন, সৈকতে প্রবেশে কোনো বাধা না থাকায় তারা অবাধেই চলাচল করছেন। বরগুনা থেকে আসা বেল্লাল নামে এক পর্যটক বলেন, নিষেধাজ্ঞা আছে তা জানা ছিল না, কেউ বাধাও দেয়নি।
ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা বলছেন, বিক্রি বাড়াতে শব্দ ব্যবহার করতে হয়। তবে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় হোটেল-মোটেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন বিশৃঙ্খলা পর্যটন শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, সৈকতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর তদারকি জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশ জোন ইনচার্জ তাপস চন্দ্র রায় জানান, মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক অভিযান চালানো হয়েছে। অতীতে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। সৈকতে শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।