ভোলার সাগরতীরে দাঁড়িয়ে থাকা ২২৫ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন ওয়াচ টাওয়ারটি একসময় ছিল পর্যটকদের ভিড়ের কেন্দ্র। কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেটিই হয়ে উঠছে হতাশার প্রতীক। অযত্নে নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো, কমছে পর্যটকের সংখ্যা, আর থমকে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্রের গতি।
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত এই সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘চরফ্যাশন টাওয়ার’ নামে। ২০১৮ সালে তৎকালীন পরিবেশ উপমন্ত্রীর উদ্যোগে ভোলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে জ্যাকব টাওয়ার হিসেবে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
আধুনিক নকশা, নীল কাঁচের গম্বুজ এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে শুরু থেকেই এটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। টাওয়ারের চূড়ায় উঠলে দেখা যায় সমুদ্রতীর, বিস্তীর্ণ সবুজ চর এবং দূরের দিগন্তজোড়া দৃশ্য, যা সহজেই দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করত।
তবে গত দুই বছরে এই টাওয়ারটির রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। টাওয়ারের ফুলবাগান অযত্নে পড়ে আছে। নষ্ট হয়ে গেছে লাইটিং ব্যবস্থা ও ফোয়ারা। ধুলাবালিতে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে কাঁচের গম্বুজ। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে লিফট ব্যবহারে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দূরবীনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া। ফলে টাওয়ারের ওপর থেকে দূরের দৃশ্য উপভোগের অন্যতম আকর্ষণটিই হারিয়ে গেছে। ১০০ টাকা টিকিট কেটে অনেক পর্যটকই হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
ঢাকা থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, প্রথমবার এসে টাওয়ারটি ভালো লেগেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বার এসে দেখেছেন অবকাঠামোর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। স্থানীয়রাও বলছেন, আগে যেখানে প্রতিদিন পর্যটকের ভিড় থাকত, এখন সেখানে মানুষের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।
টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, একসময় মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় হলেও বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তারা দাবি করছে, কিছু সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দূরবীন সচলসহ অন্যান্য সুবিধা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চরফ্যাশনের এই টাওয়ারটি যথাযথভাবে সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটার মতো পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে এই এলাকা।