স্বাধীনতা দিবস, ঈদুল ফিতর এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা অবকাশকে ঘিরে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে বইছে পর্যটকদের ঢল। নীল জলরাশি আর বিস্তীর্ণ বালিয়াড়িজুড়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট, বিশেষ করে সুগন্ধা এলাকায় দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। কেউ সাগরের ঢেউয়ে স্নান করছেন, কেউ বালুচরে হাঁটছেন, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। সব মিলিয়ে সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা পর্যটক ফজলে রাব্বি জানান, পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসে ইনানি সৈকতসহ আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেছেন। কয়েকদিনের এই ভ্রমণকে তিনি বেশ উপভোগ্য বলেই মনে করছেন। তার মতে, প্রতিটি সৈকতের আলাদা সৌন্দর্য থাকলেও সুগন্ধা বিচে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাওয়া যায়।

আরেক পর্যটক রাবেয়া খাতুন বলেন, মানুষের ভিড়ে সৈকতের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। সবার সঙ্গে মিলেমিশে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাকে তিনি দারুণ বলে উল্লেখ করেন। একইভাবে আহসানুল হক খান জানান, পরিবার ও শিশুদের নিয়ে এই ভ্রমণ তার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠেছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমুদ্র সৈকতজুড়ে জোরদার ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার ব্যবস্থাপক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বালিয়াড়িতে টহল এবং পানিতে বোট টিম মোতায়েন রাখা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সৈকতে একাধিক পুলিশ বক্স, মোবাইল টিম এবং স্টেশনভিত্তিক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা তৎপর।

এদিকে, পর্যটকদের আগমনে কক্সবাজারের পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ এবং বার্মিজ পণ্যের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর ভিড়।

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের পর থেকে কয়েকদিনে প্রায় ৭ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছেন। সামনে ছুটি অব্যাহত থাকায় আরও দুই লাখ পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে।