মরুভূমির ভেতর বিস্তীর্ণ লবণ সমতল, বিশাল বালিয়াড়ি, সরু গিরিখাত আর অদ্ভুত শিলার গঠন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদা অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিস্তৃত ডেথ ভ্যালি জাতীয় উদ্যান যেন অন্য গ্রহের কোনো দৃশ্যপট। প্রায় ত্রিশ লক্ষ একর আয়তনের এই উদ্যানকে দেশটির সবচেয়ে উষ্ণ, শুষ্ক ও নিচু জাতীয় উদ্যান হিসেবে ধরা হয়।
অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য, নীরব মরুভূমি আর বৈচিত্র্যময় ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে প্রতিবছর বহু পর্যটক এখানে ভিড় করেন। তবে ভ্রমণে যাওয়ার আগে সময় নির্বাচন, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
কখন ভ্রমণ করা ভালো
গ্রীষ্মে ডেথ ভ্যালির তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে। অনেক সময় তা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে বাইরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এখানে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
তাই আরামদায়ক আবহাওয়ার জন্য শরতের শেষ ভাগ থেকে বসন্তের শুরু পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়। অক্টোবর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে দিনে তাপমাত্রা সাধারণত ১৫ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।
শীতকালেও আবহাওয়া তুলনামূলক নরম থাকে, যদিও মাঝে মাঝে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। গ্রীষ্মে গেলে হোটেল খরচ কম এবং ভিড়ও কম থাকে। তবে তখন প্রচুর পানি সঙ্গে রাখা ও দিনের শুরু বা শেষের দিকে ঘোরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কতদিন সময় রাখা ভালো
ডেথ ভ্যালির প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে সাধারণত দুই দিন সময় যথেষ্ট। এই সময়ে ব্যাডওয়াটার বেসিন, দান্তের দৃশ্যস্থান এবং মেসকুইট সমতলের বালিয়াড়ি ঘোরা যায়।
আরও সময় থাকলে চার দিন ধরে ধীরগতিতে ভ্রমণ করা ভালো। তখন কম পরিচিত পথ ধরে হাঁটা, সূর্যোদয় দেখা এবং রাতের আকাশে অসংখ্য তারার দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব।
যাতায়াত ও থাকা
উদ্যানটি তুলনামূলক নির্জন এলাকায় অবস্থিত। কাছাকাছি বড় বিমানবন্দরটি লাস ভেগাস শহরে, যেখান থেকে গাড়িতে প্রায় দুই ঘণ্টা লাগে।
উদ্যানের ভেতরে কোনো গণপরিবহন নেই। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। পার্কে ঢোকার আগে জ্বালানি ভরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এখানে উন্নত শৌচাগারসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পিং এলাকা রয়েছে। পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা থাকা কয়েকটি আবাসনও আছে।

উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান
ব্যাডওয়াটার বেসিন
সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ২৮২ ফুট নিচে অবস্থিত এই লবণ সমতল ডেথ ভ্যালির অন্যতম আকর্ষণ। বিরল বৃষ্টির পর এটি অল্প সময়ের জন্য ছোট হ্রদের মতো রূপ নেয়।
মেসকুইট বালিয়াড়ি
বাতাসে তৈরি ঢেউখেলানো বালিয়াড়িগুলো সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় বিশেষভাবে সুন্দর দেখা যায়।
শিল্পীর রঙিন পাহাড়
খনিজের প্রভাবে পাহাড়ের গায়ে গোলাপি, লাল ও সবুজের মিশ্র রঙ দেখা যায়, যা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
দান্তের দৃশ্যস্থান
উচ্চতা থেকে পুরো ডেথ ভ্যালির বিস্তীর্ণ দৃশ্য এক নজরে দেখা যায়। এখানকার আবহাওয়াও তুলনামূলক ঠান্ডা।
রাতের আকাশ দেখা
নগরের আলোর দূষণ না থাকায় এখানে রাতের আকাশ অত্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায়। শীতকালে আকাশ পর্যবেক্ষণ বিষয়ক বিশেষ আয়োজনও করা হয়।
ভ্রমণ ব্যয় ও প্রস্তুতি
উদ্যানে প্রবেশের জন্য প্রতি গাড়িতে প্রায় ৩০ ডলার ফি নেওয়া হয়, যা সাত দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
ক্যাম্পিংয়ের খরচ সাধারণত রাতপ্রতি শূন্য থেকে ৪৪ ডলার পর্যন্ত। সাধারণ হোটেলের খরচ প্রায় ১৩০ থেকে ২৫০ ডলার এবং উন্নতমানের হোটেলে ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
ভ্রমণে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি, টুপি, সূর্যরোধক মলম এবং স্তরভিত্তিক পোশাক নেওয়া জরুরি। দিনে প্রচণ্ড গরম হলেও রাতে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া বন্য প্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়া এবং অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত থাকতে পারে তা মাথায় রেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিত।