পারস্য উপসাগরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত, বিশেষ করে বিলাসবহুল ক্রুজ শিপ (প্রমোদ তরী) শিল্প সংকটে পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় দুবাই, আবুধাবি ও দোহার বন্দরে আটকে পড়েছে একাধিক বিশাল জাহাজ।
সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করায় চারটি কোম্পানির অন্তত ছয়টি ক্রুজ শিপ গত কয়েক দিন ধরে বন্দরে আটকে আছে। এর মধ্যে টিইউআই ক্রুজেস পরিচালিত ‘মেইন শিফ ৪’ জাহাজটি আবুধাবিতে অবস্থানকালে নিকটবর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবু নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া কার্নিভাল কর্পোরেশন ও রয়্যাল ক্যারিবিয়ান গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের যাত্রাপথ পরিবর্তন বা বাতিল করার কথা ভাবছে।
সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত আরব উপসাগরে ক্রুজ পর্যটনের ভরা মৌসুম চলে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জন্য কয়েকটি বিষয় জরুরি হয়ে পড়েছে:
যাত্রা বাতিল বা পরিবর্তন: শেষ মুহূর্তে যাত্রাপথ বা বন্দর পরিবর্তনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমান চলাচলে বিঘ্ন: আকাশপথ বন্ধ বা রুট পরিবর্তনের কারণে পর্যটকদের নির্দিষ্ট বন্দরে পৌঁছানো বা বাড়ি ফেরা জটিল হয়ে পড়েছে।
বীমা ও রিফান্ড: ভ্রমণকারীদের ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স এবং রিফান্ড পলিসিগুলো পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক এই অস্থিরতার প্রভাবে শেয়ারবাজারে কার্নিভাল কর্পোরেশন ও নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের মতো কোম্পানিগুলোর সূচক কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং অস্থিতিশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন কর্তৃপক্ষ এর আগেও বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার ওপরই এই খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিয়মিত অফিশিয়াল নোটিশ অনুসরণ এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় নমনীয়তা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।