উত্তর গোলার্ধে যখন শীতের বিদায়, থাইল্যান্ডে তখন শুরু হয় তীব্র গরমের ঋতু। মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তাপমাত্রা অনেক সময় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। মে মাসে প্রথম বৃষ্টি নামার আগ পর্যন্ত দেশজুড়ে থাকে শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া।
তাপদাহ সত্ত্বেও পরিকল্পনা করে গেলে এই সময় ভ্রমণের জন্য বেশ উপযোগী। ভিড় তুলনামূলক কমে, সমুদ্র থাকে শান্ত, আর নানা উৎসব দেশকে দেয় আলাদা রঙ। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত থাইল্যান্ডের নয়টি গন্তব্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো।
মার্চে কোথায় যাবেন
১. কো লিপে
সাদা বালির সমুদ্রসৈকত ও স্বচ্ছ নীল জলের জন্য পরিচিত এই ছোট দ্বীপ। আয়তন মাত্র চার বর্গকিলোমিটার। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত সৈকত পর্যটকদের আকর্ষণ করে। আশপাশের প্রবালপ্রাচীর সাঁতার, ডুবসাঁতার ও নৌভ্রমণের জন্য আদর্শ। মে মাসের আগে নৌযোগাযোগ কমে যেতে পারে, তাই আগেভাগে সময়সূচি জেনে নেওয়া ভালো।
২. সাংখলাবুরি
কাঞ্চনাবুরি থেকে প্রায় চার ঘণ্টার পথ। থাই, কারেন ও মন সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের ইতিহাস রয়েছে এখানে। ৪৪৭ মিটার দীর্ঘ কাঠের সেতু সাফান মন সেতু দেশটির দীর্ঘতম। পাশাপাশি ওয়াত ওয়াং উইওয়েকারাম মন্দির মন জনগোষ্ঠীর আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। জলাধারের নিচে ডুবে যাওয়া পুরোনো শহরের ধ্বংসাবশেষ নৌকায় ঘুরে দেখা যায়।
৩. কো ফায়াম
রানং উপকূলে অবস্থিত গাড়িমুক্ত দ্বীপ। সীমিত বিদ্যুৎ ও সরল আবাসন এই জায়গার স্বাতন্ত্র্য। শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিতে চাইলে উপযোগী। মার্চে মাঝারি ঢেউ থাকায় অভিজ্ঞ সার্ফারদেরও আকর্ষণ করে।

এপ্রিলে কোথায় যাবেন
৪. ব্যাংকক
এপ্রিলে গরম তুঙ্গে থাকলেও এই সময়েই পালিত হয় থাই নববর্ষ সংক্রান। ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল নগরজুড়ে জলকেলি উৎসব হয়। সিলম ও খাও সান সড়ক এলাকায় উৎসবের আমেজ বেশি। ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি দেখতে ওয়াত অরুন ও ওয়াত ফো পরিদর্শন করা যায়। নগরটির খাবার সংস্কৃতি ও রাতের জীবনও এই সময়ে প্রাণবন্ত থাকে।
৫. চিয়াং মাই
সংক্রান উদযাপনে সবচেয়ে প্রাণচঞ্চল নগর। পুরোনো শহর ঘিরে থাকা পরিখা এলাকায় কয়েক দিন ধরে চলে জলউৎসব। পাহাড়চূড়ার ওয়াত ফ্রা থাত দই সুদেপ ও শহরের ওয়াত ফ্রা সিং মন্দিরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা দেখা যায়। এপ্রিল মাসে আম, মাংগোস্টিন ও রাম্বুতানসহ নানা ফলের মৌসুম শুরু হয়।
৬. ফুকেট ও সিমিলান দ্বীপপুঞ্জ
শুষ্ক মৌসুমের শেষ ভাগ এপ্রিলে। সমুদ্র শান্ত থাকায় দ্বীপভ্রমণ ও ডুবসাঁতারের উপযুক্ত সময়। সিমিলান সামুদ্রিক উদ্যানে মান্তা রে ও হাঙর দেখার সুযোগ রয়েছে। বর্ষা শুরু হলে কয়েক মাসের জন্য এই অঞ্চল বন্ধ থাকে।
মে মাসের গন্তব্য
৭. কো সামুই, কো ফা নগান ও কো তাও
আন্দামান উপকূলে বৃষ্টি বাড়লেও থাইল্যান্ড উপসাগরের এই দ্বীপগুলো তুলনামূলক শুষ্ক থাকে। পর্যটকের চাপ কমে আসায় আবাসনের খরচও কিছুটা নেমে যায়। কো তাও বিশেষভাবে ডুবসাঁতারের জন্য পরিচিত।
৮. ইসান অঞ্চল
ধানক্ষেত সবুজ হয়ে ওঠে মে মাসে। ইয়াসোথন, রোই এট ও মহাসারাখাম প্রদেশে পালিত হয় রকেট উৎসব। বৃষ্টির আহ্বানে আকাশে নিক্ষেপ করা হয় ঐতিহ্যবাহী রকেট। গ্রামীণ জীবনের ছন্দ দেখার সুযোগ মেলে।
৯. রেয়ং ও চানথাবুরি
মে মাসে পূর্বাঞ্চলে শুরু হয় ফল উৎসব। দুরিয়ান, মাংগোস্টিন ও আমের সমারোহে বাজার ভরে ওঠে। চানথাবুরির ঐতিহাসিক জনপদ ও গথিক ধাঁচের নির্মল ধারণা ক্যাথেড্রাল পর্যটকদের আকর্ষণ করে।