নতুন বছর শুরু হতেই দৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়েছে তুরস্কের পর্যটন খাত। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ভর করে ২০২৬ সালে রেকর্ড স্পর্শের প্রত্যাশা করছে দেশটি। জানুয়ারির পরিসংখ্যানই সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদেশি পর্যটক আগমন দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। এর আগেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।

জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছে ইরান থেকে। মোট আগমনের ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ২৫ হাজার ২০৫ জন। তবে আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। রাশিয়া থেকে এসেছে ২ লাখ ২০ হাজার ১৬০ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে জার্মানি ও বুলগেরিয়া থেকে আগমন বেড়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭৭ ও ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। উত্তর সাইপ্রাস থেকেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে কিছু বাজারে পতন থাকলেও অন্য বাজারের বৃদ্ধিতে ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।

মহাদেশভিত্তিক হিসেবে ইউরোপ থেকে এসেছে সর্বাধিক ৩৮ দশমিক ১৯ শতাংশ পর্যটক। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগমন ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এশিয়া থেকেও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশ মিলিয়ে মোট আগমন ছিল মাত্র ১ দশমিক ১১ শতাংশ।

শীতকালেও ইস্তাম্বুল শীর্ষে রয়েছে। বছরের শুরুতে শহরটি এক মিলিয়নের বেশি পর্যটক আকর্ষণ করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে এদির্নে, যেখানে আগমন ছিল প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার। আনতালিয়ায় এসেছে ৬৭ হাজারের বেশি পর্যটক, যা গ্রীষ্ম ঘনালে আরও বাড়বে বলে ধারণা।

২০২৫ সালে তুরস্কে আন্তর্জাতিক পর্যটক এসেছে ৫ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার। বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের হিসাব করলে মোট আগমন দাঁড়ায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজারে। পর্যটন আয় বেড়ে ৬৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা সরকারি পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এবং প্রতি ২০ জনে একজনের কর্মসংস্থান এই খাতের সঙ্গে যুক্ত।

সরকার ২০২৬ সালে পর্যটন আয় ৬৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

রমজান, ঈদুল ফিতর ও নওরোজ একই সময়ে পড়ায় মার্চ থেকেই আনতালিয়ায় আগাম বুকিং বেড়েছে। পরবর্তীতে ইউরোপের ইস্টার উৎসব যুক্ত হওয়ায় চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রধান কান কাশিফ কাভালওগ্লু জানিয়েছেন, স্থানীয় ও ইউরোপীয় পর্যটকদের আগ্রহ এবার আগেভাগেই দৃশ্যমান।