ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে প্রকৃতির কাছে ফিরতে চান অনেকেই। কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে কয়েকটি দিন কাটানোর জন্য আবারও ভ্রমণপিয়াসীদের টানছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, পাহাড়ের ঢালে গড়ে ওঠা নান্দনিক অবকাশকেন্দ্র এবং নিরিবিলি পরিবেশ মিলিয়ে এখনই জমে উঠছে পর্যটন প্রস্তুতি।
শীতের শেষে প্রকৃতি কিছুটা রুক্ষ হলেও এই সময়ের ধূসর-সবুজ রূপে রয়েছে আলাদা আবেদন। ভিড়ের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অনেকেই ছুটে আসছেন নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
অবকাশযাপনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে রাঙামাটি
আগে রাঙামাটিতে থাকার জন্য হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হলেও এখন গড়ে উঠেছে নানা মানের অবকাশকেন্দ্র। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে কয়েক দিনের ছুটি কাটানোর জন্য এসব স্থানে রয়েছে প্রকৃতিনির্ভর আয়োজন।
ঈদের ছুটিতে শহরের ব্যস্ততা এড়িয়ে হ্রদ আর পাহাড়ঘেরা পরিবেশে সময় কাটাতে আগ্রহীদের জন্য রাঙামাটি হয়ে উঠেছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
পর্যটন মোটেল এখনো জনপ্রিয়
ঝুলন্ত সেতুর পাশেই অবস্থিত পুরোনো পর্যটন মোটেলটি এখনো দর্শনার্থীদের কাছে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য আবাসন। নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ এখানে সহজেই পাওয়া যায়।
আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক বদলে দিয়েছে ভ্রমণের ধরন
রাঙামাটি থেকে আসামবস্তি হয়ে কাপ্তাইমুখী সড়কটি এখন দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ভ্রমণপথ হিসেবে পরিচিত। সড়ক ও নৌপথ উভয় মাধ্যমেই যাতায়াত করা যায়। এই পথের পাশেই একে একে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন অবকাশকেন্দ্র, যা রাঙামাটিতে অবকাশযাপনকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
জনপ্রিয় অবকাশকেন্দ্রগুলোর বৈশিষ্ট্য
রাঙা দ্বীপ
ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই দ্বীপভিত্তিক অবকাশকেন্দ্রটি এখন বেশ আলোচিত। চারদিক ঘিরে হ্রদ আর পাহাড়ের বিস্তৃত দৃশ্য এক নজরে দেখা যায়।
বার্গী লেক ভ্যালি
হ্রদ ও কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষা শান্ত পরিবেশ। যানবাহনের শব্দ নেই বললেই চলে। কক্ষ থেকেই দেখা যায় হ্রদের জলরাশি।
বড়গাং, রেং ও ইজোর এলাকা
পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এসব স্থানে সূর্যাস্ত দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে জায়গাগুলো আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
রান্যা টুগুন
প্রাকৃতিক বনভূমির ভেতরে গড়ে ওঠা ব্যতিক্রমধর্মী অবকাশকেন্দ্র। এখানে নৌবিহার, মাছ ধরা, পাখির ডাক শোনা এবং বনমোরগের বিচরণ দেখা যায়।
জুমকিং ও গাড়পাড়
হ্রদ ও নদীর মিলনস্থলের কাছে অবস্থিত পরিবেশবান্ধব আবাসন। নির্জনতা খুঁজতে আসা পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষ পছন্দের।
রাঙামাটির দর্শনীয় স্থান
রাঙামাটিতে ঘোরার মতো স্থান রয়েছে অসংখ্য।
কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার রাজবাড়ি, পলওয়েল উদ্যান এবং ডিসি বাংলো পর্যটকদের নিয়মিত আকর্ষণ করে।
অনেকে স্থানীয় পথপ্রদর্শক নিয়ে পরিচিত স্থান ছাড়াও আশপাশের পাহাড়ি গ্রাম ও প্রাকৃতিক এলাকা ঘুরে দেখেন। এতে পার্বত্য জনপদের জীবনযাপন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা
রাঙামাটি যেতে হলে প্রথমে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙামাটিগামী পাহাড়িকা বাস চলাচল করে। জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ১৪০ টাকা।
অক্সিজেন এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত তিন চাকার যানেও রাঙামাটি যাওয়া যায়। এতে ভাড়া প্রায় ৯০০ টাকা।
ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও কলাবাগান থেকে সরাসরি বাস চলাচল করে। সাধারণ আসনের ভাড়া প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
আকাশপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে দুই থেকে তিন ঘণ্টায় রাঙামাটি যাওয়া সম্ভব। বিমানভাড়া সাধারণত ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। বিমানবন্দর থেকে ভাড়ায় ছোট বাস নিলে খরচ পড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।
অগ্রিম প্রস্তুতি জরুরি
ঈদের ছুটিতে পর্যটকের চাপ অনেক বেশি থাকে। তাই ভ্রমণের অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন আগে আবাসন সংরক্ষণ করা ভালো। সরকারি আবাসন কিংবা বেসরকারি অবকাশকেন্দ্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পৃষ্ঠা বা নির্ধারিত যোগাযোগ নম্বরে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।