বাংলার কলম্বাস ডেস্ক

বিশ্বের সর্বোচ্চ বিন্দু এভারেস্টসহ বহু পর্বতশৃঙ্গ মানুষের জয় করা হয়ে গেছে, কিন্তু তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কৈলাস পর্বত আজও অজেয় রয়ে গেছে। 
ছয় হাজার ৬৩৮ মিটার উচ্চতার কৈলাস জয় হয়নি নানা কারণেই। এর মধ্যে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা যেমন আছে, তেমনি আছে ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণও।

ধর্মীয় কারণ
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে দেখতে গেলে কৈলাস পর্বত হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। হিন্দুধর্মে, এটি শিবের বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত। বৌদ্ধধর্মে এটি মাউন্ট মেরুর প্রতীক, যা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্র। জৈনধর্মে এটি প্রথম তীর্থংকর ঋষভনাথের নির্বাণস্থল। আবার বন ধর্মে এটি আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্র। ধর্মীয় এসব গুরুত্বের কারণে কৈলাসের চূড়ায় ওঠাকে পবিত্রতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়। 

রাজনৈতিক কারণ
কৈলাসের অবস্থান চীনের তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে। চীন সরকার ২০০১ সালে পর্বতের শৃঙ্গজয় নিষিদ্ধ করে। মূলত স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে এ সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।

অভিযানের ইতিহাস
কৈলাস জয়ের চিন্তা বা চেষ্টা মানুষ যে একেবারেই করেনি, বিষয়টি তেমন নয়। কিন্তু নানা কারণে সেসব চিন্তা আর চেষ্টা শেষ অবধি গড়ায়নি। কৈলাস জয়ের প্রচেষ্টা অবশ্য খুবই সীমিত। ১৯২৬ সালে ব্রিটিশ অভিযাত্রী হিউ রাটলেজ পর্বতের উত্তরপশ্চিম দিক থেকে শিখরে ওঠার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া ও ধর্মীয় কারণে সে অভিযান বাতিল হয়ে যায়।

এরপর গত শতাব্দীর আশির দশকে বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী রাইনহোল্ড মেসনার কৈলাসে ওঠার জন্য চীন সরকারের অনুমতি পান। কিন্তু ধর্মীয় কারণে তিনি কৈলাস জয়ের চেষ্টা করেননি। সবশেষ ২০০১ সালে স্পেনের একদল পর্বতারোহী  শৃঙ্গজয়ের অনুমতি পায়, কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের মুখে তাদের সে অভিযান বাতিল হয়ে যায়।

প্রচলিত বিশ্বাস
কৈলাস ঘিরে নানা ধরনের কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। কিছু অভিযাত্রী দাবি করেন, পর্বতের আশপাশে সময়ের গতি পরিবর্তিত হয় এবং কম্পাস ঠিকঠাক কাজ করে না। অনেকে বিশ্বাস করেন, তিব্বতি সাধক মিলারেপা একমাত্র ব্যক্তি, যিনি পর্বতের শৃঙ্গে পৌঁছান। কিন্তু তিনি নাকি অন্যদের শৃঙ্গজয় থেকে বিরত থাকতে বলেন।

পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতা
কৈলাস পর্বতের আকৃতি পিরামিডের মতো, যার চারটি দিক খাড়া ও বরফে আচ্ছাদিত। এই ভৌগোলিক গঠন পর্বতারোহণকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।