বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। ২০২৫ সালে রেকর্ড ১০ কোটি ২০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেছেন। আগের বছরের তুলনায় এটি ২০ লাখ বেশি, যা বছরে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০১৯ সালের তুলনায় বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ফ্রান্সের পর্যটন খাত যে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।

২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনায় পর্যটনমন্ত্রী সার্জ প্যাঁপাঁ খাতটির শক্তিশালী পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক আকর্ষণের কথা তুলে ধরেন। সরকারি সংস্থা আতু ফ্রান্সের মহাপরিচালক আদাম উবুইহ এবং সংস্থার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিয়ান মানতেই বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।

স্পেনের সঙ্গে ব্যবধান কমলেও শীর্ষে ফ্রান্স

ফ্রান্স অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্পেনের চেয়ে। ২০২৫ সালে স্পেনে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ। দুই দেশের ব্যবধান প্রায় ৫০ লাখ, যা মোটামুটি ৫ শতাংশ। যদিও ২০২২ সালে এই ব্যবধান ছিল অনেক বেশি। তখন ফ্রান্সে ৭ কোটি ৭০ লাখ এবং স্পেনে ৫ কোটি ২০ লাখ পর্যটক গিয়েছিলেন।

তবে আয়ের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের এগিয়ে থাকা আরও স্পষ্ট। ২০২৫ সালে দুই দেশের আয়ের ব্যবধান স্থিতিশীল ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশে। ২০২৪ সালে তা ছিল ৩৮ শতাংশ। দুই হাজার সালের শুরুর দিকে দুই দেশ প্রায় সমান অবস্থানে ছিল। সময়ের সঙ্গে পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্র বদলেছে।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে জোরালো প্রবৃদ্ধি

২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল ইউরোপীয় পর্যটকরা। তাদের রাতযাপনের সংখ্যা বেড়েছে ৫ শতাংশ। হোটেল খাতে উত্তর আমেরিকার পর্যটক বেড়েছে ১৭ শতাংশ। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও ৫০ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিক ফ্রান্স ভ্রমণ করেছেন।

ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যটকের গড় খরচ ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬০ ইউরোতে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটন আয় রেকর্ড ৭৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। অর্থ ও অর্থব্যবস্থা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে পর্যটন খাতে ইতিবাচক ভারসাম্য দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো।

ফরাসিদের ভ্রমণ আচরণে পরিবর্তন

২০২৫ সালে দেশীয় রাতযাপন কমেছে ৫ শতাংশ। বিপরীতে বিদেশ ভ্রমণ বেড়েছে ৪ শতাংশ। ফরাসিরা বেশি গিয়েছেন স্পেন ও দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে। বিদেশে তাদের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরো, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। তবু সামগ্রিক পর্যটন ভারসাম্য ইতিবাচকই রয়েছে।