ভারতের ওডিশার বাবেইজোদা গ্রাম পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। টানা ১৫ বছর ধরে প্লাস্টিক ও আবর্জনামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ গ্রামটিকে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দেখিয়ে দিয়েছে, সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ থাকলে একটি জনপদকে দীর্ঘদিন পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।

শিল্পপতি ও আরপিজি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবেইজোদা গ্রামের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে গ্রামের রাস্তাঘাট ও আশপাশের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যায়। গ্রামটির দীর্ঘদিনের এই সাফল্যের পেছনে স্থানীয় মানুষের ঐক্য, সচেতনতা ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

গোয়েঙ্কার মতে, একটি এলাকার মানুষ নিজেরাই যদি পরিবেশের দায়িত্ব নেন, তাহলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়। বাবেইজোদার এই উদ্যোগ অন্য গ্রাম ও শহরেও অনুসরণ করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

পরিচ্ছন্নতায় স্থানীয়দের অংশগ্রহণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাবেইজোদায় গ্রামের নারীরা দিনে কয়েকবার রাস্তা পরিষ্কার করেন। প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ রাখার পাশাপাশি স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় দর্শনার্থীদেরও। ফলে পরিচ্ছন্নতা এখানে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের নিয়মিত চর্চা।

গ্রামটির উদ্যোগের প্রশংসা করে অনেকে বলেছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে কোনো জনপদ বা পর্যটন এলাকা দীর্ঘদিন পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।

পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশের ক্ষতি করে এবং পর্যটকদের অভিজ্ঞতাও খারাপ করে।

বাবেইজোদার উদাহরণ পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভ্রমণের সময় শুধু সুন্দর জায়গা উপভোগ করাই নয়, সেই জায়গার পরিবেশ রক্ষা করাও দায়িত্বের অংশ। যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে পর্যটকেরা পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ওডিশার বাবেইজোদা প্রমাণ করেছে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্থানীয় মানুষের ধারাবাহিক অংশগ্রহণও। পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল পর্যটন বিকাশে গ্রামটির অভিজ্ঞতা অন্য পর্যটন এলাকাগুলোর জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।