এল নিনো ফিরে এসেছে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে চলতি পর্যটনেও। কোথাও বাড়তে পারে বৃষ্টি, কোথাও দেখা দিতে পারে খরা, আবার কোথাও তুষারপাতের ধরন হয়ে উঠতে পারে অনিশ্চিত।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, শক্তিশালী এল নিনো খরা ও অতিবৃষ্টিকে আরও তীব্র করতে পারে এবং স্থল ও সমুদ্র—দুই জায়গাতেই তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো স্থায়ী থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের মেট অফিস এটিকে বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্য একটি ‘অভূতপূর্ব ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনো ডিসেম্বর ২০২৬-এ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত এর প্রভাব থাকতে পারে।

কোথায় কেমন প্রভাব পড়তে পারে?
এল নিনোর কারণে পূর্ব আফ্রিকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে কেনিয়া ও তানজানিয়ার কিছু সাফারি ক্যাম্প নদীর পানি বেড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কিছু এলাকায় এল নিনো সাধারণত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া নিয়ে আসে। বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, দক্ষিণ জাম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বড় অংশে মার্চ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় তুলনামূলক কম হতে পারে। ফলে পর্যটকদের জন্য রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ভালো হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য খরা ও পানির সংকট বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খরা, অতিরিক্ত গরম ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কিছু এলাকায় আবার বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের দক্ষিণ অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তুষারপাত স্কিয়ারদের জন্য ভালো খবর হতে পারে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ রকি পর্বতমালায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে।

পর্যটকদের কী সতর্কতা?
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এল নিনোর সময়ে ভ্রমণ পরিকল্পনায় নমনীয়তা রাখা উচিত। সম্ভব হলে ফেরতযোগ্য বুকিং করতে হবে এবং ভ্রমণবীমায় আবহাওয়াজনিত পরিবর্তনের কভারেজ আছে কি না দেখে নিতে হবে।
এ ছাড়া নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা এবং ক্রুজ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পানির সংকটে পানামা খালের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
ইকুয়েডর ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো পরিস্থিতির জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। পেরুর ক্ষেত্রে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধসহ ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। জাপানেও ২০২৬ সালের বসন্ত থেকে বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর গ্যাভিন নিউসম শীতের এল নিনো ঝড় মোকাবিলায় আগাম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাব সব জায়গায় এক রকম হবে না। তাই পর্যটকদের গন্তব্যের স্থানীয় আবহাওয়া, সতর্কতা ও পরিবহন পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দেখে ভ্রমণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।