কল্পনা করুন, আপনি পৃথিবীতে থেকেও অন্য কোনো গ্রহে হাঁটছেন। শুকনো লবণের সমভূমি, প্রাণহীন বিস্তীর্ণ প্রান্তর আর ধুলোমাখা পাথুরে উপত্যকা। এটি কোনো সায়েন্স ফিকশন নয়, এটি বাস্তবতা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে অবস্থিত আতাকামা মরুভূমি পৃথিবীর অন্যতম রুক্ষ ও বিস্ময়কর পরিবেশ, যেখানে নাসা তাদের মহাকাশ যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে।

প্রশান্ত মহাসাগর ও আন্দেস পর্বতমালার মাঝে আটকে পড়া এই মরুভূমি দেখতে নিষ্প্রাণ মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে আছে অসাধারণ সব বিস্ময়। এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, সর্বোচ্চ গিজার, প্রাচীনতম মমি এবং পৃথিবীর সবচেয়ে পরিষ্কার আকাশ।

আতাকামা ভ্রমণের মূল কেন্দ্র হিসেবে সান পেদ্রো দে আতাকামা শহরটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। ক্যালামা শহরের কাছে অবস্থিত এই ছোট মরূদ্যান শহরের ঠিক বাইরে থেকেই শুরু হয়ে যায় ভ্যালে দে লা লুনার চাঁদের মতো দেখতে মরু প্রান্তর। শহরে রয়েছে আন্দিয়ান রেস্তোরাঁ, হস্তশিল্পের দোকান এবং অ্যাডভেঞ্চার সংস্থা। এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে বা সাইকেলে চড়ে সহজেই মরুভূমির গভীরে যাওয়া যায়।

উপকূলীয় শহরগুলো থেকেও আতাকামা ঘোরা সম্ভব। ইকিকে ও আরিকা বিশ্বমানের সার্ফিং গন্তব্য, আর আরিকার কাছের আজাপা উপত্যকায় রয়েছে বিশ্বের প্রাচীনতম মমি। আরও দক্ষিণে বাহিয়া ইংলেসা চিলির সবচেয়ে সুন্দর সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত।

বিদেশ থেকে সরাসরি আতাকামায় কোনো ফ্লাইট নেই। প্রথমে সান্তিয়াগো আসতে হবে, তারপর কালামা বা অন্য উত্তরের শহরে সংযোগ ফ্লাইট নিতে হবে। বাস যোগাযোগও ভালো, তবে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে গাড়ি ভাড়া বা ট্যুর বুক করা ভালো।

ভ্রমণের সেরা সময় হিসেবে ডিসেম্বর থেকে মার্চ গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দেয়। জুন থেকে আগস্ট স্টারগেজিংয়ের জন্য আদর্শ। ভিড় এড়াতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর বা এপ্রিল-মে মাসে আসাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আতাকামায় করার মতো বিষয়ের কোনো শেষ নেই। এল তাতিওর গিজার, লাগুনা সেহার হাইপারসেলাইন লেকে সাঁতার, ফ্লামিঙ্গোভরা লাগুনা চাক্সা, প্যারাগ্লাইডিং, স্যান্ডবোর্ডিং এবং রাতের আকাশে মিল্কিওয়ে দেখার অভিজ্ঞতা যেকোনো পর্যটকের জীবন বদলে দিতে পারে। ন্যূনতম ৩ দিন এবং আলতিপ্লানো ঘুরতে চাইলে ৫ দিন বা তার বেশি সময় রাখা উচিত।