ঢাকার কাছেই এমন একটি ভ্রমণস্থল রয়েছে, যার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের প্রমোদতরী, পূর্ব বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাস এবং বাংলাদেশের পর্যটন ইতিহাস। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলায় বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত মেরি এন্ডারসন দীর্ঘদিন ধরে ভাসমান রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচিত। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি পর্যটন তালিকাতেও স্থানটির নাম রয়েছে। 

প্রমোদতরী থেকে ভাসমান রেস্তোরাঁ

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৩ সালে কলকাতা শিপইয়ার্ডে ১৫০ ফুট দীর্ঘ ‘স্টেট ইয়ট মেরী এন্ডারসন’ নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্যার জন এন্ডারসনের কন্যার নামে এর নামকরণ করা হয়েছিল। গভর্নরের ব্যবহারের জন্য নির্মিত এই বিলাসবহুল জলযানটি ১৯৪৭ সালের পর পূর্ব বাংলার গভর্নর এবং ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ব্যবহারে ছিল। 

১৯৭৮ সালে জলযানটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এটি ভাসমান রেস্তোরাঁ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। 

১৯৬৬ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাংলাদেশ সফরের সময় মেরি এন্ডারসনে নদীভ্রমণের উল্লেখও পাওয়া যায়। সরকারি নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সফরে রাজপরিবারের সদস্যরা মেরি এন্ডারসন হয়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে গিয়েছিলেন।

হারিয়ে গেছে সেই ঐতিহাসিক জাহাজ

মেরি এন্ডারসনের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে ২০১৪ সালে। ১৫ অক্টোবর রাতে পাগলায় বুড়িগঙ্গায় নোঙর করা ঐতিহাসিক জলযানটিতে আগুন লাগে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জ্বলা আগুনে জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করেছিল। পরে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন তদন্ত কমিটিও গঠন করে।

তাই বর্তমানে ‘মেরি এন্ডারসন’ নামে পরিচিত ভাসমান রেস্তোরাঁকে ১৯৩৩ সালে নির্মিত সেই মূল ঐতিহাসিক জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক নয়। মূল জলযানটি ২০১৪ সালের অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে গেছে।

এখনকার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

মেরি এন্ডারসন নামটি এখনও পাগলার ভাসমান রেস্তোরাঁ ও পর্যটনস্থলের সঙ্গে যুক্ত। নদীর পাশে বসে খাবার খাওয়া, নৌযান চলাচল দেখা এবং বুড়িগঙ্গার পরিবেশ উপভোগ করাই এখানকার প্রধান আকর্ষণ।

ঢাকা থেকে যাতায়াতও সহজ। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের পাগলা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বাস, ট্যাক্সি, রিকশা বা অটোরিকশায় যাওয়া যায়।

বিকাল থেকে সন্ধ্যা নদীর পরিবেশ উপভোগের জন্য সুবিধাজনক সময় হতে পারে। তবে রেস্তোরাঁর বর্তমান কার্যক্রম ও সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।