যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভৈরব নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ১১ শিব মন্দির। সারি সারি লাল ইটের মন্দির, পুরোনো অলংকরণ আর নদীপাড়ের শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। একদিনের ভ্রমণে ঢাকা থেকে ঘুরে আসাও সম্ভব।

অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের এই মন্দিরগুলো রাজা নীলকণ্ঠ রায়ের আমলে নির্মিত। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, তাঁর কন্যা অভয়ার স্বামী নীলাম্বর রায় অল্প বয়সে মারা যাওয়ার পর অভয়া শিবের পূজায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর অনুরোধে ভৈরব নদের তীরে ১১টি শিবমন্দির নির্মাণ করা হয়।

মন্দিরগুলো ১৭৪৫ থেকে ১৭৬৪ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ১১টি মন্দিরের মধ্যে একটি প্রধান মন্দির এবং দুই পাশে সারিবদ্ধ আরও ১০টি ছোট মন্দির রয়েছে। স্থাপনাগুলোর দেয়ালে পোড়ামাটির অলংকরণ, খিলানাকৃতির প্রবেশপথ ও পুরোনো ইটের নির্মাণশৈলী বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মন্দিরগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজও হয়েছে। ফলে বর্তমানে দর্শনার্থীরা তুলনামূলকভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেখার সুযোগ পান।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়কপথে যশোর-খুলনা মহাসড়ক ধরে নওয়াপাড়া বা ফুলতলা এলাকায় যাওয়া যায়। নওয়াপাড়া থেকে স্থানীয় যানবাহনে রাজঘাট এলাকায় গিয়ে ভৈরব নদ পার হয়ে মন্দিরের দিকে যেতে হয়। স্থানীয় যাতায়াতের জন্য ইজিবাইক, ভ্যান বা অন্যান্য যানবাহন পাওয়া যায়।

রেলপথে নওয়াপাড়া রেলস্টেশনেও যাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।

কত খরচ হতে পারে

মূল লেখার হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা থেকে বাসে যাওয়া-আসা, স্থানীয় যাতায়াত ও নদী পারাপার মিলিয়ে জনপ্রতি আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা বাজেট রাখা যেতে পারে। তবে বাস, ট্রেন, স্থানীয় যানবাহন ও নৌযানের ভাড়া সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। খাবার ও ব্যক্তিগত খরচ এই হিসাবের বাইরে।

ভ্রমণের আগে পরিবহনের বর্তমান ভাড়া এবং নদী পারাপারের ব্যবস্থা জেনে নেওয়া ভালো। বর্ষাকালে নদীর পানি ও নৌযান চলাচলের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা উচিত।