পর্যটকদের অসদাচরণের অভিযোগে জাপানের জনপ্রিয় একটি এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়া নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টোকিওর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনোদনকেন্দ্রিক এলাকা শিনজুকুতে বর্তমানে ৩ হাজার ৭৭৫টি ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসন বা ‘মিনপাকু’ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান ট্যুরিজম এজেন্সি (জেটিএ)।
ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, জাপানে থাকা এয়ারবিএনবির মতো প্রায় ৪২ হাজার ৭০টি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনের প্রায় ১০ শতাংশই শিনজুকুতে অবস্থিত।
২০২৬ সালে পর্যটকদের বিরুদ্ধে শব্দদূষণ, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, ধূমপান এবং অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশের মতো নানা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিনজুকু বিখ্যাত বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলস্টেশন শিনজুকু স্টেশন এবং কাবুকিচোর মতো প্রাণবন্ত নৈশজীবনকেন্দ্রিক এলাকার জন্য।
অন্যদিকে, জাপান ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৬ কোটি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত পর্যটন বা ‘ওভারট্যুরিজম’ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
ছুটির আবাসন ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্বে থাকা শিনজুকুর এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, আবাসিক এলাকা এবং স্কুলের আশপাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন স্বল্পমেয়াদি আবাসন নিষিদ্ধ করতে বর্তমান বিধিমালা সংশোধনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসন ব্যবসার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোকে ঘিরে অভিযোগ ও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বেড়েছে।”
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নীতিটি কেবল বর্তমানে চালু থাকা স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এর আগে জুলাইয়ে জাপান ট্যুরিজম এজেন্সি স্থানীয় সরকারগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, শান্তিপূর্ণ বসবাস ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা কিংবা স্থানীয় স্থায়ী জনসংখ্যা ও কমিউনিটি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে— এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে তারা স্বল্পমেয়াদি ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ বা প্রয়োজনে তা নিষিদ্ধ করতে পারে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিনজুকুর অর্ধেকেরও বেশি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার আবাসন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। মঙ্গলবার শিনজুকুর মেয়র নতুন নিয়ম ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় ‘মিনপাকু’ বা স্বল্পমেয়াদি আবাসন বছরে সর্বোচ্চ যত দিন ভাড়া দেওয়া যায়, সেই সীমাও ১৮০ দিন থেকে কমিয়ে ১২০ দিন করা হতে পারে।