দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সুশৃঙ্খল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত দিকনির্দেশনা তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিবি কার্যালয়ে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা পর্যটকদের সর্বোত্তম সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যেতে চাই। আশা করছি, এ বছরই মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হবে।

দেশের পর্যটন খাতের জন্য এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে একটি কৌশলগত পর্যটন মহাপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৯ সালে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের কারণে এর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। পরে পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

বর্তমানে সরকার দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। এতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফারুকী বলেন, পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা বাড়ানোর জন্য বিটিবির কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা বাড়ানোর জন্য আমাদের কিছু প্রকল্প রয়েছে। আমরা এসব প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই।”

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান বিটিবি সিইও।

তার ভাষ্য, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দূতাবাস ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই, যাতে তাদের দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করা যায়।”