কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে সমুদ্র ও পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় দৃশ্যের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সারি সারি আকাশছোঁয়া সুপারি গাছ। ইনানী, হিমছড়ি ও উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও পাহাড়ের ঢালজুড়ে গড়ে ওঠা এসব সবুজ বাগান এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্যামেরায় জায়গা করে নিচ্ছে।
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের পথে কোথাও রাস্তার একপাশে, কোথাও দুই পাশে, আবার কোথাও পাহাড়ের ঢালজুড়ে দেখা যায় নিবিড় সবুজ সুপারি বাগান। ইনানী সৈকত, হিমছড়ি ও উখিয়ার পাতোয়ারটেকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এসব বাগান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হিমছড়ির পাহাড়ি ঢালে সারি সারি উঁচু সুপারি গাছ চারপাশের সবুজের মধ্যে আলাদা দৃশ্য তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভাদ্র মাসে গাছে গাছে ঝুলে থাকা কাঁচা সুপারি এবং বৃষ্টিতে ধোয়া সবুজ প্রকৃতি পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ করছে।
কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভে ভ্রমণের সময় সমুদ্র, পাহাড় ও বনভূমির পাশাপাশি এসব সুপারি বাগানের দৃশ্য পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। অনেকেই পথিমধ্যে গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি প্রকাশ করেন।
হিমছড়ির দক্ষিণ মাংলাপাড়া এলাকায় ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক আবু হেনা শাকিল বলেন, “মেরিন ড্রাইভে সমুদ্র আর পাহাড় দেখব, সেটাই জানতাম। কিন্তু রাস্তার পাশে এত সুন্দর সুপারি বাগান আছে, সেটা আগে জানতাম না। বাগানের সামনে গাড়ি থামিয়ে ছবি না তুলে থাকা যায় না।”
কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক মীর সাব্বির হোসেন বলেন, “এক জায়গায় সমুদ্র, একটু পর পাহাড়, আবার কোথাও সুপারি বাগান। পুরো পথটাই যেন আলাদা আলাদা ছবির ফ্রেম।”
স্থানীয়দের মতে, সুপারি এ অঞ্চলের পরিচিত অর্থকরী ফসল হলেও এখন এর সঙ্গে পর্যটনের একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। পর্যটকরা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি সুপারি চাষ সম্পর্কেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
উখিয়ার প্যাঁচারদ্বীপ এলাকার ইউপি সদস্য সাহাবউদ্দিন বলেন, “এখন এর সঙ্গে পর্যটনের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। পর্যটকরা বাগান দেখে আগ্রহী হচ্ছেন, ছবি তুলছেন। ফলে এলাকার সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষির প্রতিও মানুষের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।”
তবে পর্যটন বাড়ার সঙ্গে পরিবেশ ও বাগান সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পর্যটকদের বাগানে প্রবেশের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গাছ বা ফলের ক্ষতি না করা এবং আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সাংবাদিক রাসেল চৌধুরীর মতে, পরিকল্পিতভাবে কিছু সুপারি বাগানকে পর্যটনবান্ধব করা গেলে কৃষিভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বাগানের ভেতরে হাঁটার পথ, বসার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় ফল ও কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে পর্যটকরা আরও বেশি সময় সেখানে কাটাতে পারবেন।
সমুদ্র, পাহাড় ও সবুজ কৃষিভূমির সমন্বয়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এমনিতেই দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণপথ। সেই প্রাকৃতিক দৃশ্যপটে সুপারি বাগানের সারি এখন পর্যটকদের জন্য যোগ করেছে নতুন এক সবুজ অভিজ্ঞতা।