দীর্ঘ ৯১ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বন উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম ছয় দিনেই ৩৬টি লঞ্চে ২ হাজার ৫২০ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আটজন বিদেশি পর্যটক।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের প্রজনন মৌসুমে বনজ সম্পদ সুরক্ষায় সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। গত ১ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আবারও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন গন্তব্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগে বর্তমানে ১৪টি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবছর এসব কেন্দ্রে কয়েক লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বাগেরহাটের করমজল পর্যটনকেন্দ্রেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।

পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে পর্যটকরা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। করমজলের পায়ে হাঁটার পথ ধরে ঘুরে দেখা, নদী ও খালে নৌভ্রমণ এবং হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।

মোরেলগঞ্জের পর্যটক এস এম রিফাতুল ইসলাম জনি বলেন, “সুন্দরবন শুধু ঘোরার জায়গা নয়, এটি প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করার একটি অনন্য সুযোগ।”

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, “দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। তবে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় প্রতিদিনই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে।”

তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ব বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১৩টি লঞ্চে পাঁচজন বিদেশিসহ ৬৪৬ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন।

অন্যদিকে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান জানান, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় ২৩টি লঞ্চে তিনজন বিদেশিসহ ১ হাজার ৮৭৪ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।

তিন মাস পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ সীমিত থাকায় সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশে বিচরণের সুযোগ পেয়েছে বলে বনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় বিভিন্ন এলাকায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণের ঝাঁক, বানর ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নৌভ্রমণ ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকায় নতুন মৌসুমের শুরুতেই সুন্দরবনের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে।