শরৎ আসতেই কক্সবাজার শহরের বাকঁখালী নদীর তীরজুড়ে ফুটেছে সাদা কাশফুল। নতুন সেতু সংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গার বিস্তীর্ণ কাশবন এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে উঠেছে নতুন মৌসুমি আকর্ষণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জায়গাটি একসময় বাকঁখালী নদীর অংশ ছিল। পরে নদীতীরের জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বসতি গড়ে ওঠে। সরকারি কর্তৃপক্ষ দখলদার উচ্ছেদের পর জায়গাটি কয়েক বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
গত দুই বছরে ওই পরিত্যক্ত জমিতে স্বাভাবিকভাবে কাশফুলের বিস্তার ঘটে। এবার ফুল পুরোপুরি ফুটে ওঠায় বদলে গেছে এলাকার চেহারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে জায়গাটির পরিচিতি দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে। বন্ধুদের দল ও পরিবার নিয়ে আসা মানুষ কাশফুলের মধ্যে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
উখিয়া থেকে আসা মোহাম্মদ আয়ন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে জায়গাটির ছবি দেখছিলেন। তাই সেখানে এসে ছবি ও ভিডিও করেছেন। তাঁর ভাষায়, “কাশফুলের বাগানটি সত্যিই সুন্দর। জায়গাটি আমার খুব ভালো লেগেছে।”
দক্ষিণ বাহারছড়া থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা জাসমিন আক্তারও জায়গাটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ। তিনি বলেন, “কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। জায়গাটি সত্যিই সুন্দর। তবে এখানে আসার রাস্তা খুব খারাপ।”
তবে দর্শনার্থীদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। অনেকে কাশফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ গাছের ওপর দিয়ে হাঁটছেন। এতে কাশবন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাসমিন বলেন, “অনেকে কাশফুল ছিঁড়ে কানে দিচ্ছেন বা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে জায়গাটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। ফুলগুলো সংরক্ষণ করা উচিত।”
স্থানীয়দের মতে, কাশবনটি সংরক্ষণ করা গেলে কক্সবাজারের নিয়মিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বাইরে এটি একটি আকর্ষণীয় মৌসুমি গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। এজন্য দর্শনার্থীদের ফুল না ছেঁড়া, কাশগাছের ওপর দিয়ে না হাঁটা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।