পানির নিচে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, হতাশ পর্যটকরা
রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদের ঝুলন্ত সেতু পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরছেন ভ্রমণপিপাসুরা। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেতুতে পর্যটকদের চলাচল।
রাঙামাটির পাহাড় ও হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। ঝুলন্ত সেতুটি এই জেলার অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থান। অতীতে বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সেতুতে পর্যটক চলাচল বন্ধ রাখার নজির রয়েছে।
বর্তমানে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সেতুর প্রবেশমুখে লাল পতাকা টাঙিয়ে এবং বাঁশ দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে ছিল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুটি কাছ থেকে দেখবো। কিন্তু এখানে এসে দেখি সেতুটি পানির নিচে ডুবে আছে। একটা ছবি তোলারও উপায় নেই, মনটাই খারাপ হয়ে গেলো।’
সেতু বন্ধের প্রভাব পড়েছে রাঙামাটির পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ও। কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণের জন্য পর্যটক কমে যাওয়ায় শতাধিক ইঞ্জিনচালিত বোট অলস বসে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বস্ত্র ও হস্তশিল্পের দোকানেও ক্রেতা কমে গেছে।
স্থানীয় বোট মালিক সমিতির ইজারাদার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বছরের এই সময়ে পর্যটকদের যে ভিড় থাকে, তা দিয়ে আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। কিন্তু সেতু ডুবে যাওয়ার পর থেকে আয় পুরোপুরি বন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে।’
হোটেল মালিক মো. সুমন মিয়া বলেন, ঝুলন্ত সেতু দেখতে আসার পরিকল্পনা নিয়ে অনেক পর্যটক রাঙামাটি ভ্রমণ করেন। সেতুটি ডুবে থাকায় বুকিং বাতিল হচ্ছে এবং হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানি বেড়ে সেতুটি প্রায় ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি কমলে দ্রুতই পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু জানান, উঁচু করে নতুন একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জরিপের কাজ চলছে। তাঁর আশা, নতুন সেতু নির্মিত হলে রাঙামাটির পর্যটনে আরও গতি আসবে।