ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের পুগলিয়া অঞ্চলে এমন একটি শহর আছে, যেখানে ঘরগুলোর ছাদই যেন শহরের পরিচয়। সাদা দেয়ালের ওপর ধূসর পাথরের শঙ্কু আকৃতির ছাদ, সরু গলি আর সারি সারি ঐতিহ্যবাহী ঘর নিয়ে আলবেরোবেল্লো দেখতে অনেকটা রূপকথার গ্রামের মতো। পর্যটকদের কাছে শহরটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এসব ‘ত্রুল্লি’, যার ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি এখনো টিকে আছে।

ইত্রিয়া উপত্যকায় অবস্থিত আলবেরোবেল্লোর ত্রুল্লি স্থাপত্যকে ১৯৯৬ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, শহরের রিওনে মন্তি এলাকায় ১ হাজার ৩০টি এবং আয়া পিকোলা এলাকায় ৫৯০টি ত্রুল্লি রয়েছে।

পাথর জোড়া দিয়ে তৈরি অনন্য ঘর

ত্রুল্লি মূলত চুনাপাথরের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ঘর। সাদা দেয়ালের ওপর থাকে শঙ্কু, গম্বুজ বা পিরামিড আকৃতির ছাদ। এসব ঘরের বিশেষত্ব হলো, ঐতিহ্যবাহী নির্মাণে পাথর একটির ওপর আরেকটি বসানো হতো, ব্যবহার করা হতো না সিমেন্ট বা মর্টার। এই শুষ্ক-পাথর নির্মাণ পদ্ধতির শিকড় প্রাগৈতিহাসিক যুগে।

ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, আলবেরোবেল্লোর কিছু ত্রুল্লির বয়স ১৪ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ছাদের পাথরের ওপর অনেক সময় ধর্মীয়, পৌরাণিক বা লোকবিশ্বাসের প্রতীক আঁকা থাকে। ছাদের চূড়ায় দেখা যায় বিভিন্ন অলংকারও।

রিওনে মন্তি ও আয়া পিকোলা

ত্রুল্লি দেখতে পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে রিওনে মন্তি ও আয়া পিকোলা। বিশেষ করে রিওনে মন্তির সরু, ঢালু গলি ধরে হাঁটলে দুই পাশে দেখা যায় অসংখ্য সাদা ত্রুল্লি।

আয়া পিকোলা তুলনামূলকভাবে আবাসিক চরিত্র ধরে রেখেছে। শহরের উঁচু জায়গা থেকে ত্রুল্লিগুলোর সারি দেখার সুযোগও রয়েছে।

দেখুন ত্রুল্লো সোভারানো

আলবেরোবেল্লোর উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে ত্রুল্লো সোভারানো। এটি বিরল দুইতলা ত্রুল্লি এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকার অন্তর্ভুক্ত আরও উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক জাদুঘর, পিয়াজা দেল মারকাতো ও কাসা দ’আমোরে।

বর্তমানে কিছু ত্রুল্লি বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হলেও অনেকগুলোতে গড়ে উঠেছে দোকান, রেস্তোরাঁ, জাদুঘর ও পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। ইতালির সরকারি পর্যটন ওয়েবসাইটও আলবেরোবেল্লোকে ত্রুল্লির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছে।

কখন যাবেন

বসন্ত ও শরৎকাল আলবেরোবেল্লোর সরু গলি হেঁটে ঘোরার জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক। সকাল ও বিকেলের আলোয় সাদা দেয়াল এবং পাথরের ছাদের ছবি ভালো আসে।

ভ্রমণের সময় পুগলিয়ার স্থানীয় খাবারও চেখে দেখা যেতে পারে। স্থানীয় পাস্তা, জলপাই তেল, তাজা সবজি ও পনির এ অঞ্চলের খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।