টানা চার দিনের ছুটি পেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ভিড়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার। বর্ষার সতেজ প্রকৃতি ও উত্তাল সমুদ্রের ভিন্ন রূপ দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের এই পর্যটন নগরীতে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সাধারণত বর্ষাকালে পর্যটক কম থাকলেও এবার ছুটিকে কেন্দ্র করে সৈকতজুড়ে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার অনেকে ঐচ্ছিক বা নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ায় শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে চার দিনের অবকাশ তৈরি হয়। এই সুযোগেই কক্সবাজারমুখী হন বিপুলসংখ্যক পর্যটক।
সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টসহ মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সৈকতে হাঁটাহাঁটি, সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ ও পরিবার নিয়ে অবকাশ যাপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিংয়ের হারও সন্তোষজনক। সায়মন, রামাদা, ওশান প্যারাডাইস, লং বিচ ও মারমেইড ইকো রিসোর্টসহ বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ বুকিং রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে হোটেল কক্ষের ভাড়ায় বিশেষ ছাড়, তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাবার এবং আরামদায়ক আবহাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সময়েও কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম বাড়ছে। ফলে প্রচলিত মন্দা মৌসুমের ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
তবে উত্তাল সমুদ্রের কারণে পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। সি সেইফ লাইফগার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৈকতের নির্ধারিত স্থানে লাল পতাকা টানানো থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের চিহ্নিত নিরাপদ এলাকাতেই গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৈকত এলাকায় নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি হয়রানি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় রয়েছে।