বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য লন্ডনে এবার রাতযাপনের উপর বিশেষ শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হোটেল ও এয়ারবিএনবি-ধরনের সাময়িক আবাসনে রাতপিছু সর্বোচ্চ ৩ পাউন্ড পর্যন্ত এই ট্যুরিস্ট ট্যাক্স ধার্য করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সরকার লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ও অন্যান্য শহরের মেয়রদের এই পর্যটক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছে। নতুন এই শুল্কসংক্রান্ত পরামর্শ প্রক্রিয়া বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠন বিজনেসএলডিএন তাদের পরামর্শ পত্রে রাতপিছু ২ থেকে ৩ পাউন্ডের একটি নির্দিষ্ট হারের শুল্কের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটকদের নিরুৎসাহিত না করতে একটি সর্বোচ্চ রাতসীমা নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে তারা। সংগঠনটি একে "সবচেয়ে কম ক্ষতিকর বিকল্প" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে, এই শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থ পর্যটন শিল্পের উন্নয়নেই ব্যয় করতে হবে, অন্য কোনো তহবিলের ঘাটতি মেটাতে নয়।

বিজনেসএলডিএনের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ মুনিয়া বারুয়া জানিয়েছেন, হোটেল ও আবাসন খাত ইতিমধ্যে বাড়তি করের চাপ ও কর্মসংস্থান ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে। এই মুহূর্তে নতুন শুল্ক চাপালে তা খাতটির জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হবে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্যাট-মুক্ত কেনাকাটা সুবিধা পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন, যা তার মতে পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগের চেয়ে বেশি আয় এনে দেবে।

উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক, টোকিও, লিসবন, বার্সেলোনা ও প্রাগসহ বিশ্বের বহু শহরেই পর্যটক শুল্ক চালু রয়েছে। প্যারিসে দুই তারকা হোটেলে রাতপিছু ৩.২৫ ইউরো এবং চার তারকায় ৮.৪৫ ইউরো পর্যন্ত শুল্ক নেওয়া হয়।

তবে ব্রিটেনের হোটেল, পাব ও ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউকেহসপিটালিটি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, এই শুল্ক কেবল দাম বাড়াবে এবং মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। এই শুল্ক থেকে লন্ডনে বছরে প্রায় ২৫ কোটি পাউন্ড আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, এই শুল্ক থেকে সংগৃহীত অর্থ লন্ডনের অর্থনীতিতে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে এবং এটি শহরটির বৈশ্বিক পর্যটন ও ব্যবসায়িক গন্তব্য হিসেবে মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে।