বর্ষার প্রবল বৃষ্টিতে মেঘালয়ের সোহরা যেন জলপ্রপাতের এক বিশাল প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। মেঘে ঢাকা পাহাড় আর সবুজ উপত্যকার মাঝখানে তিন ধাপে নেমে আসা কিনরেম জলপ্রপাত এ সময় হয়ে ওঠে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
সোহরা, যা চেরাপুঞ্জি নামেও পরিচিত, থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে ইস্ট খাসি হিলস জেলায় অবস্থিত কিনরেম জলপ্রপাত। প্রায় ৩০৫ মিটার বা ১ হাজার ফুট উচ্চতার এই জলপ্রপাতটি তিনটি ধাপে নিচে নেমে এসেছে। শেষ ধাপে জলধারা দুটি স্রোতে বিভক্ত হয়ে আবার মিলিত হয়, যা এর দৃশ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
কিনরেম জলপ্রপাত থাংখারাং পার্ক এলাকার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। পাহাড়ের কিনারায় অবস্থিত পার্কের দর্শনস্থান থেকে জলপ্রপাত ও আশপাশের বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়। মেঘালয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিষ্কার দিনে এখান থেকে বাংলাদেশের সমতলভূমির দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।
বর্ষাকালেই কিনরেম জলপ্রপাত তার সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ ধারণ করে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে জলধারার প্রবাহ বেড়ে যায় এবং পাহাড় বেয়ে নেমে আসা পানির গর্জন প্রকৃতির অন্য রকম অভিজ্ঞতা তৈরি করে। জলপ্রপাতটির তিন ধাপ ও ৩০৫ মিটার উচ্চতার তথ্য বিভিন্ন পর্যটন সূত্রেও উল্লেখ রয়েছে।
তবে বর্ষায় এই অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে এবং স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। থাংখারাং পার্কে ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া এবং উপযুক্ত জুতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের পর্যটনবিষয়ক সরকারি তথ্যভান্ডার।
সোহরার পরিচিত জলপ্রপাতগুলোর বাইরে তুলনামূলক কম আলোচিত কোনো প্রাকৃতিক গন্তব্য দেখতে চাইলে কিনরেম জলপ্রপাত হতে পারে আকর্ষণীয় পছন্দ। বিশেষ করে বর্ষায় মেঘ, পাহাড় ও প্রবল জলধারার মিলিত দৃশ্য মেঘালয় ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।