টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে জনপ্রিয় পর্যটন জেলা বান্দরবানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময়ে পর্যটকদের সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অব্যাহত ভারি বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ৬ জুলাই জারি করা আগের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আবহাওয়ার আরও অবনতি হওয়ায় নতুন করে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানো হয়েছে।
বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ভারি বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি ১১ দশমিক ৯৮ মিটার এবং সাঙ্গু নদীর পানি ১৬ দশমিক ০৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। বিপৎসীমা যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮০ মিটার ও ১৪ দশমিক ৮০ মিটার হওয়ায় দুটি নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
বান্দরবানের পাহাড়ি ঝর্ণা, ট্রেইল ও নদীপথভিত্তিক পর্যটন বর্ষাকালে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে আকস্মিক পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল, নদীর স্রোত বৃদ্ধি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর: ১২ জুলাই পর্যন্ত
বন্ধ থাকবে: সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকা
গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত: ২১০ মিলিমিটার
সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি: উভয়ই বিপৎসীমার ওপরে