বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার বরাবরই পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। নীল সমুদ্র আর বালুকাবেলার সৌন্দর্যের পাশাপাশি এবার পর্যটকদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নানা প্রজাতির তাজা সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী। সৈকতের আশপাশের বাজার, জেলেদের নৌকা এবং ভাসমান বিক্রিকেন্দ্রে দেখা মিলছে বড় আকারের কাঁকড়া, টুনা মাছ, ইসকুইট অক্টোপাস, চিংড়িসহ নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলেরা সাগর থেকে মাছ ধরে তীরে ফিরলে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। কেউ মাছের আকার দেখে বিস্মিত হচ্ছেন, কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী তাজা মাছ কিনে নিচ্ছেন। আবার অনেকেই বড় কাঁকড়া ও অক্টোপাস হাতে নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে বিশাল আকৃতির কাঁকড়া ও অক্টোপাস পর্যটকদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে।
পর্যটকদের মতে, কক্সবাজারে এসে তাজা সামুদ্রিক মাছ রান্না করে খাওয়ার অভিজ্ঞতা অন্য রকম। স্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে টুনা মাছ, কাঁকড়া, অক্টোপাস ও চিংড়ির নানা পদ এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেক পর্যটকই বলছেন, সমুদ্রের কাছেই ধরা মাছ খাওয়ার স্বাদ সত্যিই অতুলনীয়।
সৈকতসংলগ্ন সড়কের পাশে ফুটপাথের দোকানগুলোতেও দেখা যাচ্ছে ভিড়। সেখানে তেলে ভাজা টুনা মাছ, কাঁকড়া ও চিংড়ি খেতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। দোকানিরা জানান, শীত মৌসুম এলেই পর্যটক বাড়ে, আর তখন তাদের ব্যবসাও ভালো হয়। সারাবছর বিক্রি থাকলেও এই সময়টাতে আয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামুদ্রিক মাছের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে জেলেদের পাশাপাশি পরিবহন, হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনযাত্রায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।