দীর্ঘদিন ধরেই কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপ দেওয়ার কথা বলে আসছে সরকার। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে টেকনাফ ও মহেশখালী এলাকায় একাধিক ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পরিকল্পনা ঘোষণার প্রায় এক দশক পরও সাবরাং ও নাফ ট্যুরিজম পার্ক প্রকল্প অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে। অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে সাবরাং ও নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং মহেশখালীর সোনাদিয়ায় একটি ইকোট্যুরিজম পার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেয়। সাবরাং এলাকায় ৯৬৭ একর এবং নাফ ট্যুরিজম পার্কের জন্য ২৭১ একর জমি নির্ধারণ করা হয়। তবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার কথা বিবেচনায় সোনাদিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক প্রকল্পটি বাতিল করা হয়।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্ককে একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল, ইকো কটেজ, পুল ভিলা, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, মেরিন অ্যাকোরিয়াম, ভাসমান রেস্তোরাঁ, কেবল কার, গল্ফ কোর্স, শপিং সেন্টার, হাসপাতাল এবং বিশেষ ক্রুজ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে সব সেবা চালু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অগ্রগতি সীমিত। বর্তমানে সেখানে জমি ভরাট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাজ চোখে পড়ে না।

অন্যদিকে নাফ ট্যুরিজম পার্কটি টেকনাফের নাফ নদীর মাঝখানে জালিয়ার দ্বীপে প্রস্তাবিত ছিল। একপাশে বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা এবং অন্যপাশে মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা অবস্থানের কারণে প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকল্পটি বর্তমানে অগ্রাধিকার তালিকায় নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, সাবরাং সম্ভাবনাময় এলাকা হলেও বর্তমানে অন্য পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে বিদেশি পর্যটক বাড়ানো কঠিন হবে। তারা মনে করছেন, পর্যটন উন্নয়নকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা না করলে কক্সবাজারের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না।