পর্যটকদের কোলাহলে মুখর হওয়ার আগেই এক ভিন্ন রূপে ধরা দেয় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। সকাল সাতটার দিকে সৈকতজুড়ে বিরাজ করে শান্ত, নিরিবিলি ও প্রশান্ত এক পরিবেশ, যা অনেক দর্শনার্থীর কাছে হয়ে উঠছে দিনের সবচেয়ে উপভোগ্য সময়।
সাগরের শীতল বাতাস আর ঢেউয়ের ছন্দময় শব্দে সকালবেলার সৈকত যেন তৈরি করে স্বস্তির এক প্রাকৃতিক আবহ। দিনের ব্যস্ততা শুরুর আগে সৈকতের প্রতিটি প্রান্তে দেখা মেলে নীরব সৌন্দর্যের।
সকালের এই সময়েই ধীরে ধীরে শুরু হয় সৈকতকেন্দ্রিক বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক কার্যক্রম। বিচ চেয়ার, জেট স্কি, ঘোড়া, বিচ বাইকসহ বিনোদনসামগ্রী নিয়ে কর্মীরা সৈকতে আসতে শুরু করেন।
একই সময় দায়িত্ব পালন শুরু করে সি সেফ লাইফগার্ড সদস্যরাও। সকাল সাতটা থেকে কোলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করেন তারা।
দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সকালে সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখন অনেকেই ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন। তবে কিছু পর্যটক বিশেষভাবে এই শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতেই সকালে সৈকতে আসেন।
কেউ হাঁটছেন সমুদ্রতীর ধরে, কেউ আবার দাঁড়িয়ে শুনছেন ঢেউয়ের শব্দ। অনেক স্থানীয় বাসিন্দাকেও দেখা যায় সকালে সৈকতে শরীরচর্চা করতে। কেউ জগিং করছেন, কেউ হাঁটছেন, আবার কেউ খোলা পরিবেশে হালকা ব্যায়ামে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সকালে সৈকতে আসা তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এত শান্ত ও সুন্দর সৈকত আমি আগে দেখিনি। সকালবেলার পরিবেশটা একেবারেই ভিন্ন এবং খুবই সতেজ লাগে।”
আরেক পর্যটক নুসরাত জাহান বলেন, “কক্সবাজারে সূর্যোদয় দেখার পরিকল্পনা ছিল। আজ আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যোদয় দেখা হয়নি, কিন্তু তারপরও কোনো আক্ষেপ নেই। সকালের পরিবেশই মন ভরিয়ে দিয়েছে।”
স্থানীয় দর্শনার্থী রুবেল কান্তি বলেন, “আমি প্রতিদিন সকালে এখানে হাঁটতে আসি। সমুদ্রের বাতাস ও শান্ত পরিবেশ মনকে সতেজ করে। পাশাপাশি হাঁটাহাঁটি স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারী।”
সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠ লাইফগার্ড মোহাম্মদ ওসমান বলেন, “সকাল সাতটা থেকেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। কোলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে নিরাপত্তা টাওয়ার ও লাল-হলুদ পতাকা স্থাপন করা হয়েছে। সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা দায়িত্ব পালন করি।”
নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে কক্সবাজার সৈকতের এই শান্ত সকাল এখনও পর্যটকদের কাছে এনে দিচ্ছে স্বস্তি, প্রশান্তি ও প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্যের অনন্য অনুভূতি।