প্রবীণ নাগরিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ট্রেন ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী সোমবার (২৫ মে) থেকে এ দুই শ্রেণির যাত্রী ট্রেনের টিকিটে বিশেষ ভাড়া ছাড় পাবেন।
রোববার (২৪ মে) রেলপথ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ রেলওয়েকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে রেল পরিবহনকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যাত্রীরা ট্রেন ভাড়ার ভিত্তিমূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।
অনলাইনে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে যাত্রীর বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। এ সুবিধা পেতে যাত্রীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
প্রবীণ যাত্রীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। এখানে সপ্তাহ গণনা করা হবে যাত্রার তারিখ অনুযায়ী। কোনো টিকিট ফেরত দেওয়া হলে সেটি সাপ্তাহিক হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং যাত্রী পুনরায় ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
একজন প্রবীণ যাত্রী সহযাত্রী নিয়ে ভ্রমণ করলে সহযাত্রীর জন্য নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে। তবে সহযাত্রীও যদি প্রবীণ হন, তাহলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ যাত্রী ছাড় সুবিধা পাবেন। এ ক্ষেত্রে সহযাত্রীর নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে আলাদাভাবে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
অন্যদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও বিশেষ ভাড়া সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে প্রতিবন্ধী যাত্রীরা আগের মতো মোট ভাড়ার ওপর ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন। পাশাপাশি নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিতে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
যেসব ট্রেনে সুলভ বা শোভন শ্রেণি নেই, সেখানে শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়ার ওপর এ সুবিধা কার্যকর হবে। তবে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ আগের নিয়মেই যুক্ত হবে।
প্রাথমিকভাবে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য এ সুবিধা শুধু স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অনলাইন টিকিটিং সুবিধাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবন্ধী যাত্রীর সহযাত্রীর জন্য নিয়মিত ভাড়াই কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।
এদিকে, স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফায়েড পরিচয়পত্র চালুর পর ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য পরিবহন খাতে বিশেষ সুবিধা চালুর অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে ১৮০ দিনের মধ্যে সিনিয়র সিটিজেন, শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ট্রেনে বিশেষ ছাড় সুবিধা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সেই নির্দেশনার প্রথম ধাপ হিসেবে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য এ ভাড়া ছাড় কার্যকর করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।