নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকৃতির অকৃত্রিম ছোঁয়া আর মুখে জল আনা খাবারের মেলবন্ধন যেখানে ঘটে, সেখানে মানুষের ঢল নামবেই। ঠিক এমনটাই ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের যমুনা নদী তীরবর্তী নিভৃত গ্রাম ভাট পিয়ারীতে। নদীপাড়ের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশের পাশাপাশি এখন সেখানে যোগ হয়েছে এক নতুন আকর্ষণ— ‘শাহজাহান চাচার প্যাঁচ পরোটা'। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হওয়া এই পরোটার স্বাদ নিতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছেন শত শত খাদ্যরসিক।
ড্যাস পরোটার বিশেষত্ব ও দাম
সাধারণ পরোটার চেয়ে এটি আকারে এবং স্বাদে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রচুর প্যাচ ও বিশেষ কৌশলে তৈরি এই বড় আকারের পরোটাটি যেমন মুচমুচে, তেমনি সুস্বাদু। বর্তমানে দুটি সাইজে এই পরোটা পাওয়া যাচ্ছে— ছোট সাইজের দাম ৪০ টাকা এবং বড় সাইজের দাম ৮০ টাকা। যারা একবার এই পরোটা খেয়েছেন, তারাই এর অনন্য স্বাদের প্রশংসা করছেন।
৪০ বছরের নীরবতা ভাঙলো এক ভাইরাল ভিডিওতে
এই দোকানের কারিগর ও মালিক ৬৫ বছর বয়সী শাহজাহান চাচা। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি এই পরোটা বানিয়ে আসছেন। চার দশক ধরে ব্যবসা চললেও গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই পরোটার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট।
শাহজাহান চাচা আনন্দের হাসি হেসে বলেন, "আগে প্রতিদিন বড়জোড় ৮ থেকে ১০ কেজি ময়দার পরোটা বিক্রি হতো। আর এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ কেজি ময়দার পরোটা বানাতে হয়। মানুষ লম্বা সিরিয়াল দিয়ে দাঁড়িয়ে এই পরোটা কেনেন।"
পর্যটক ও ভোজনরসিকদের ভিড়
ঈদের ছুটিতে যমুনার রূপ দেখতে আসা এসবি রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় ২০০৩ সালের ব্যাচের একদল বন্ধু— আব্দুল মোমিন, আল আমিন, সজীব, মাফিজুল, শামীম ও তুষার জানান, তারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেই এখানে এসেছেন। পরোটা খাওয়ার পর তারা প্রত্যেকেই এর স্বাদ ও ব্যতিক্রমী মেকিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শুধু স্থানীয়রাই নন, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা এবং দূর-দূরান্ত, এমনকি রাজধানী ঢাকা থেকেও অনেকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটির দিনগুলোতে এখানে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রতিদিন সকালে অসংখ্য মোটরসাইকেল ও অন্যান্য গাড়ির বহর নিয়ে মানুষের আগমন এলাকাটিকে মুখরিত করে তুলছে।
বোনাস উপহার: যমুনার পাড় ও কাঁঠাল বীথির অপরূপ সৌন্দর্য
ভাট পিয়ারী গ্রামে শুধু পরোটার স্বাদই নয়, প্রকৃতির সৌন্দর্যও চোখে শান্তি দেয়। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে বাঁধের ধার দিয়ে যে রাস্তাটি ভাট পিয়ারী গ্রামের দিকে গেছে, তার সৌন্দর্য এক কথায় মনোমুগ্ধকর। বিশেষ করে বর্তমান মৌসুমে রাস্তার দুই পাশের গাছে গাছে ঝুলছে অসংখ্য কাঁঠাল, যা পথচারীদের চোখের তৃপ্তি মেটায়।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখানকার যমুনা নদীর পাড়। কোনো কৃত্রিম বাঁধ বা কংক্রিটের ছোঁয়া ছাড়াই নদীটি এখানে তার চিরচেনা প্রাকৃতিক ও আদি রূপ নিয়ে বয়ে চলেছে। নদীপাড়ের এই অকৃত্রিম শান্ত পরিবেশ আর শাহজাহান চাচার গরম গরম ‘প্যাঁচ পরোটা’র যুগলবন্দী উপভোগ করতে চাইলে যেকোনো ছুটির দিনে ঘুরে আসতে পারেন সিরাজগঞ্জের এই ভাট পিয়ারী গ্রাম থেকে।