কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ার পর পরিষ্কার আকাশ ফিরতেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শুক্রবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরের বুকে সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে সৈকতে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক।
দিনের শেষ আলো ধীরে ধীরে সাগরের জলে মিলিয়ে যাওয়ার সময় আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল, কমলা ও সোনালি রঙের মায়াবী আভা। উত্তাল ঢেউ, শীতল সমুদ্রবাতাস এবং রঙিন আকাশ মিলিয়ে সৈকতে তৈরি হয় এক মনোরম পরিবেশ।
বাংলা বছরের শেষ মাস বৈশাখের শেষ দিকে টানা কয়েক দিন বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে পর্যটক উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের নির্মল আকাশ ও অনুকূল আবহাওয়া সৈকতে ফিরিয়ে আনে পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য।
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরায় সূর্যাস্তের দৃশ্য ধারণ করেন। আবার কেউ কেউ নিরিবিলি দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আবির বলেন, কক্সবাজারের সূর্যাস্ত প্রতিবারই নতুন অনুভূতি দেয়।
তিনি বলেন, “এটি শুধু সুন্দর একটি দৃশ্য নয়, বরং প্রকৃতির নীরব এক অভিজ্ঞতা, যা দীর্ঘ সময় মনে থেকে যায়।”
আরেক পর্যটক হাসান বলেন, কক্সবাজারের সূর্যাস্ত শুধু দেখার বিষয় নয়, এটি অনুভবেরও একটি মুহূর্ত।
তার ভাষ্য, “এই অভিজ্ঞতাই বারবার মানুষকে কক্সবাজারে ফিরিয়ে আনে।”
লাবণী পয়েন্টের ব্যবসায়ী মো. ইউনুস বলেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে গত কয়েক দিনে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসায় মন্দাভাব ছিল।
তিনি বলেন, “শুক্রবার বিকেল থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করায় বিক্রিও ভালো হয়েছে।”
স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী রহমান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
তিনি বলেন, “প্রতিদিন বিকেলে সূর্যাস্ত দেখতে মানুষ সৈকতে ভিড় করছেন। এতে আমাদের ব্যবসাও আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।”
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে ছিল ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্যরা। পুরো সৈকতজুড়ে তারা নিয়মিত নজরদারি চালান।