দক্ষিণের সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন আর শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্যই পরিচিত নয়। নতুন প্রাকৃতিক স্পট যুক্ত হওয়ায় পর্যটন মানচিত্রে জায়গাটি আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। সম্প্রতি ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ নামে দুটি স্থান ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ছে।
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ এলাকা। সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, ছোট ছোট টিলা, লেক ও সাগরের ঢেউয়ের সমন্বয়ে এখানে তৈরি হয়েছে অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ। নীল আকাশ আর নির্মল বাতাসে জায়গাটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে নিরিবিলি এক গন্তব্য।
এই স্পটে এসে পর্যটকরা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা এবং পরিবার নিয়ে অবসর কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় অনেকেই তাঁবু টাঙিয়ে রাতযাপনও করছেন। দর্শনার্থীদের মতে, এখানকার বড় আকর্ষণ হলো একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, একই জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দেখা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। পরিবেশ শান্ত এবং আরামদায়ক।
রাজশাহী থেকে আসা আরেক পর্যটক বলেন, জায়গাটির নীরবতা ও নির্মল পরিবেশ মানসিক প্রশান্তি দেয়।
স্থানীয় ট্যুর গাইডদের ভাষ্য, শুরুতে এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পায়। পরে ভ্রমণ ব্লগারদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে।
একইসঙ্গে কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার চলাফেরা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে এই দুটি স্পট কুয়াকাটার পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় এটি ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।
তবে কিছু পর্যটকের অসচেতন আচরণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য, উচ্চ শব্দ ও ময়লা-আবর্জনা প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই পর্যটন উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।