সিলেটের চা বাগানের নির্জনতায় লুকিয়ে থাকা ক্যামেলিয়া লেক এখন ধীরে ধীরে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। শমসেরনগরের পাহাড়ি টিলা আর সবুজ চা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এই লেক একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, অন্যদিকে তেমনি শান্ত পরিবেশের জন্য আলাদা পরিচিতি পাচ্ছে।

শমসেরনগরের ভেতরে আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে, কখনো পিচঢালা আবার কখনো মাটির রাস্তা ধরে এগোতে হয় এই লেকের দিকে। চারপাশে বিস্তীর্ণ চা বাগান, নতুন গজানো চা পাতার সবুজ আভা আর গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো পথজুড়ে ছায়া-আলো তৈরি করে ভ্রমণকে করে তোলে উপভোগ্য।

স্থানীয়দের কাছে ‘বিসলার বান’ নামে পরিচিত হলেও লেকটির প্রকৃত নাম ক্যামেলিয়া লেক। চা বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকার এক প্রান্তে টিলার ওপর অবস্থিত এই লেকটি অন্যান্য বাগানের জলাধার থেকে ভিন্ন। সাধারণত সেচের জন্য নিচু জমিতে লেক তৈরি করা হলেও এখানে উঁচু টিলাজুড়ে এর অবস্থান একে করেছে ব্যতিক্রমী।

লেকের চারপাশে যত দূর চোখ যায়, ছোট-বড় পাহাড়ি টিলা আর চা বাগানের সবুজে ঘেরা দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। আকাশের নীল আর লেকের স্বচ্ছ পানির মিলনে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। পাখির ঝাঁক আকাশ আর পানির ওপর ঘুরে বেড়ায়, যা পুরো এলাকাকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

লেকের পাশে বসার জন্য রয়েছে ছাউনি, যেখানে বসে সহজেই সময় কাটানো যায়। গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর হালকা বাতাস মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় এক শান্ত পরিবেশ। পর্যটকেরা চাইলে লেকের পানিতে পা ডুবিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারেন।

চা বাগান কর্তৃপক্ষ লেকটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে কিছু অবকাঠামো যুক্ত করেছে। ইট-সিমেন্টের কাজ এবং লেকের ওপর তৈরি পাটাতন দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধা বাড়িয়েছে। লেকসংলগ্ন একটি ঘর স্থানীয়দের কাছে ‘ক্লাব ঘর’ নামে পরিচিত, যেখানে বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে।

এই লেকের নামকরণ করা হয়েছে ডানকান ব্রাদার্সের মাদার কোম্পানি ক্যামেলিয়া পিএলসির নামে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বজুড়ে ৭৩ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশে কাজ করেন প্রায় ১৮ হাজার।

ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে এখনো তুলনামূলক অজানা হওয়ায় এখানে পর্যটকের ভিড় কম। ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে, যা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে আগ্রহীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানযোগে মৌলভীবাজার পৌঁছানো যায়। ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনে শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ বা শমসেরনগর স্টেশনে নামা যায়, তবে সব ট্রেন সব স্টেশনে থামে না।

শ্রীমঙ্গল থেকে বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় শমসেরনগর গিয়ে সেখান থেকে সহজেই লেকে পৌঁছানো যায়। যাদের হাঁটার অভ্যাস আছে তারা প্রায় চার কিলোমিটার পথ হেঁটেও যেতে পারেন। বিমানে এলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে নেমে সড়ক বা রেলপথে শমসেরনগর যাওয়া সম্ভব।